রোজদিন ডেস্ক : বছর পড়লেই গঙ্গাসাগর মেলা। এবছর বিপুল সংখ্যায় ভক্ত সমাগমের আশা করছে প্রশাসন। তাই প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখা যাবে না। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে মন্ত্রীরা রোজই পালা করে মেলার স্থান পরিদর্শন করছেন। শনিবার মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপ পরিদর্শনে এলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্তমন্ত্রী পুলক রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা ও সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় এবং সুন্দরবন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। গঙ্গাসাগর মেলার মাঠ এবং অস্থায়ী পরিকাঠামো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। এদিন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারাও। যাত্রী সুরক্ষা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, ড্রোনে নজরদারি এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয় এদিনের বৈঠকে। আগামী ৮ জানুয়ারি শুরু হতে চলেছে গঙ্গাসাগর মেলা। জানা গিয়েছে, মেলা শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রীও সাগরে আসবেন প্রস্তুতির চূড়ান্ত রূপরেখা খতিয়ে দেখতে। বৈঠক শেষে পূলক রায় জানান, পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। পানীয় জল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— সবই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। গঙ্গাসাগরের তটে এখন শুধুই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা।
এর আগে শুক্রবার মেলা চত্বর ঘুরে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। মেলার দিনগুলোয় য়াতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেটা মাথায় রেখে আগেভাগেই মেলার সামগ্রিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। শুক্রবার সরেজমিনে গোটা ব্যবস্থা খুঁটিয়ে দেখার পাশাপাশি কপিল মুনির মন্দিরেও পুজো দেন দমকলমন্ত্রী। সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও লাইন ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সারেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা, জেলা সভাধিপতি নীলিমা মিস্ত্রি বিশাল-সহ দমকল বিভাগ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সুজিত বসু বলেন, গতবারের থেকেও এবারের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। রুদ্রনগরে একটি স্থায়ী দমকলকেন্দ্র রয়েছে। তাছাড়াও আরও ১৮টি অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে মেলার জন্য। প্রতিটি কেন্দ্রে একটি করে দমকলের গাড়ি রাখা হবে। অস্থায়ী কেন্দ্র থাকবে নামখানা, বেণুবন, কচুবেড়িয়া, লট নম্বর ৮, চেমাগুড়ি-সহ সাতটি ট্রানজিট পয়েন্টে। এই এলাকাগুলিতে ১ লাখ ৩৬ হাজার গ্যালন করে জলের ট্যাঙ্ক রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার মাঠ, কপিল মুনির মন্দির, সাগর বাস স্ট্যান্ড, সি বিচ, হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড, মেলা অফিস সহ আরও ১১টি জায়গায় অস্থায়ী দমকল কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে ৩৫৮ জন দমকল কর্মী, ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার সহ ১৬ জন স্টেশন অফিসার এবং অন্যান্য আধিকারিকরা দায়িত্বে থাকবেন। দেওয়া হয়েছে। কিছু রাস্তা সরু হওয়ায় কারণে ৭৫টি মোটর সাইকেল রাখা হচ্ছে অগ্নি নির্বাপণ গাড়ি হিসেবে। মেলা প্রাঙ্গণে থাকছে ২২৪ টি হাইড্রেন্ট পয়েন্ট।

Be the first to comment