রোজদিন ডেস্ক : বেশ কয়েক মাস দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কার্যত ব্রাত্য ছিলেন তিনি। দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফর-সহ রাজ্য বিজেপির একাধিক কর্মসূচিতেও। আজ একদা দলের ওজনদার নেতা, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিয়ে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। গতকাল কলকাতায় এসেছেন অমিত শাহ। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, তাঁর সরকার, দলের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন।
আজ বিধাননগরের এক হোটেলে দলের রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অমিত শাহ। সেখানে দিলীপ ঘোষও উপস্থিত ছিলেন। গত ২৫ ডিসেম্বর প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর জন্মদিনে অন্যদের মত সাধারণভাবে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। কিন্ত দলের শীর্ষ নেতাদের যে বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা না পাওয়ায় যাননি তিনি।
সূত্রের খবর, আজ অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিলীপ ঘোষকে গতকাল রাতে ফোন করেছিলেন রাজ্যের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল।
আজ দলের শীর্ষ চার নেতাদের সঙ্গে বিশেষ ভাবে বৈঠক করেন অমিত শাহ। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষও। যা নিয়ে চর্চা এখন তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকেই একদা দলের প্রতাপশালী নেতা, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়। ওই মন্দির উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর নাম না করে বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে একাধিক তোপ দেগেছিলেন দিলীপ ঘোষ। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও তাঁর জন্য বরাদ্দ গাড়ি, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সবই বহাল ছিল। তিনি রাজ্য সভাপতি থাকাকালীনই ২০১৯ সালে রাজ্যে সব থেকে বেশি সাংসদ পেয়েছিল রাজ্য বিজেপি। তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব নিয়ে নানা জল্পনা হলেও একাধিক জায়গায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলীপ ঘোষের উত্তর ছিল, দল যা দায়িত্ব দেবে তিনি পালন করবেন।
আজ অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই দূরত্ব ঘুচতে চলেছে বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন। এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে দিলীপ ঘোষ জানান, তাঁদের শুনতে ডাকা হয়েছিল। যা বলার দল বলবে।
আগামী বছর রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে কোন ভূমিকায় দেখা যাবে প্রশ্নেও তাঁর সাবধানী উত্তর, সেটা দল বুঝবে।
প্রসঙ্গত, আরএসএস থেকে উঠে আসা দিলীপ ঘোষ দলের ডাকাবুকো নেতা হিসাবে নাম করেছিলেন। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে ফের স্বমহিমায় দেখা যাবে বলে অনুরাগীরা আশা করছেন।

Be the first to comment