রোজদিন ডেস্ক : কেন্দ্রীয় বাজেটের পুরোটাই তথ্যের জাগলারি এবং ভাঁওতা বলে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের মুখ্য উপদেষ্টা ডঃ অমিত মিত্র। বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, বাজেটে তথ্যের জাগলারি ছাড়া আর কিছু নেই। শিক্ষা, কৃষি, অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণের।মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দের হার প্রতি বছরই কমছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেটের মোট ব্যয়ের ৩.৮ শতাংশ ছিল শিক্ষা খাতে। বর্তমান বাজেটে তা নেমেছে ২.৬০ শতাংশে। সারে ভর্তুকির ক্ষেত্রেও বরাদ্দ কমার কথা তুলে ধরেন অমিত মিত্র। তাঁর দাবি, ২০১৫-১৬ সালে মোট ব্যয়ের ৪.০৪ শতাংশ ছিল সারে ভর্তুকি, যা এ বার বাজেটে ৩.১৯ শতাংশে নেমেছে।অনগ্রসর শ্রেণির ক্ষেত্রেও বরাদ্দ কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। ২০১৫-১৬ সালে তপসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ ছিল মোট ব্যয়ের ০.২১ শতাংশ, যা এখন ০.১৯ শতাংশে নেমে এসেছে।মুখ্যমন্ত্রীর সুরে গলা মিলিয়ে তিনি বলেন, এই বাজেট কৃষক বিরোধী, যুব সমাজ বিরোধী এবং পিছিয়ে পড়াদের বিরোধী। এমনকী মধ্যবিত্তের জন্যও কিছু নেই। তাহলে এই বাজেট কাদের জন্য প্রশ্ন তোলেন অমিত মিত্র। আবাসের বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাজেটে বরাদ্দ দেখানো হয়েছিল ৩০,১৭০ কোটি টাকা। পরে তা কমে দাঁড়ায় ১৩,৬৭০ কোটি টাকায়। কিন্তু বাস্তবে খরচ হয়েছে মাত্র ৫,৮১৫ কোটি টাকা। এরকম অনেক তথ্য তুলে ধরে তিনি কেন্দ্রকে নিশানা করেন। স্বচ্ছ ভারত মিশন-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। ডানকুনি–সুরাট শিল্প করিডর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ২০০৯ সাল থেকেই ডানকুনি–দিল্লি ফ্রেট করিডরের কথা বলা হলেও তা বিহার পর্যন্ত এসে থমকে রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এই নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী।

Be the first to comment