রোজদিন ডেস্ক :
রাজ্যে নির্মম, অত্যাচারী টিএমসি সরকারের যাওয়ার কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে, আর কেউ এদের বাঁচাতে পারবে না। যে মা মাটি মানুষের কথা বলে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, এখন সেই মা নিঃস্ব, মাটি লুন্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে, এই সরকারের পরিবর্তন চাই-ই চাই বলে হুঙ্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ ব্রিগেডের ভিড়ে ঠাসা জনসভায় তিনি টিএমসি-র বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। বলেন, এদের যাওয়ার একটাই জায়গা, তা হোল জেল!!
এবারের বিধানসভা নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নয়, তা রাজ্যের আত্মা, কাটমানি, ভয় থেকে মুক্তির নির্বাচন। এদের পালটানো দরকার বলে তিনি আহবান জানান।
ঘড়ির কাঁটার তখন তিনটে বেজে সাতাশ মিনিট। প্রথমে বাংলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমে ভারত মাতা কি জয় বলেন, এরপর বলেন, “আমার প্রিয় পশ্চিম বঙ্গবাসী। প্রিয় ভাই, বোনেরা, অন্তরের অন্তস্থল থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।”
এর আগে সিঙ্গুরে এসে তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে গেছিলেন। এরপর গত ১ মার্চ থেকে বিজেপি রাজ্যে পরিবর্তন যাত্রা শুরু করে, আজ তার সমাপ্তি হয় ব্রিগেডে। যেদিকে তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। ব্রিগেড প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলকে হতাশ করেনি। এই জনসমুদ্র দেখে দৃশ্যত খুশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ঐতিহাসিক ময়দান।যেদিকে দেখা যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। এরপর সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের মন কি বলছে, এই তার ছবি! নতুন বাংলা। এই নির্মমতার সরকার, মহা জঙ্গলরাজের সরকার বদল করে চাই বিজেপির সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজও এখানে আসার সময় টিএমসি তাঁদের সমর্থকদের চোর বলে গালি দেয়। আসল চোর কে তা সবাই জানে।
আজও এঁদের আসতে বাধা দিয়েছে, সেতু, রাস্তা বন্ধ করেছে, পোস্টার ছিঁড়েছে। গলা চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্মমতা, মহা জঙ্গলরাজের সরকারের যাওয়ার কাউন্ট ডাউন শুরু হয়েছে, সেদিন আর দূরে নেই, আইনের শাসন এখানে কায়েম হবে। যে আইন মানবে না, টিএমসি-র অত্যাচারীদের ছাড়া হবে না, “চুন চুন” করে হিসাব নেওয়া হবে বলে তিনি হুঙ্কার দেন। বলেন, টিএমসি সরকার যতই জোর লাগাক, পরিবর্তন কেউ রুখতে পারবে না, বিজেপির সঙ্গে মহিষাসুর মর্দিনীর আশীর্বাদ আছে।
দীর্ঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যের বিভিন্ন দিকের গরিমা,ঐতিহ্য র কথা তুলে ধরেন। রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি সুভাষ, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম বসু, রানি রাসমণি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি প্রমুখ মনীষীদের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে ওঁদের পরিকল্পনার নব নির্মাণ হবে। এক সময় এই রাজ্য সব দিকে এগিয়েছিল।
এখন টিএমসি-র আমলে চাকরি বিক্রি হচ্ছে, সর্বত্র দুর্নীতি, কোন বিকাশ হয়নি।
প্রথমে কংগ্রেস, সিপিএম, এরপর টিএমসি। সিপিএমের গুন্ডারাই এই দলে এসেছে বলে তোপ দাগেন।
এই ব্রিগেড থেকেই নতুন বাংলার বিউগল বাজলো বলেন।
টিএমসি-কে তীব্র সমালোচনায় বিঁধে বলেন, এরা নিজেরা ও কাজ করে না, তাঁদের ও কাজ করতে দেয় না, এটাই এদের এজেন্ডা!
চা-বাগান, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন, আয়ুষ্মান ভারত ইত্যাদি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে টিএমসি রাজ্যের মানুষ কে বঞ্চিত করে রেখেছে।
এখানে তাঁদের সরকার নেই, তাও রাজ্যের উন্নয়নে আছেন তাঁরা। আজই ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস, উদ্বোধন হয়েছে।
রাজ্যে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে ও টি এম সি কে তীব্র আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। সন্দেশখালির কথা বলেন। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু, কলেজে ছাত্রী ধর্ষণের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, এখন এই রাজ্যের মায়েরা মেয়েদের সন্ধ্যার মধ্যে বাড়ি ফেরার জন্য ফোন কতেন।
রাজ্যে গরিবদের জন্য ও টিএমসি কাজে বাধা দেয় অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। কেন্দ্রের পি এম সূর্য বিদ্যুৎ প্রকল্প এখানে না করায় বহু মানুষের বিদ্যুৎ বিল শূন্য হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেন। রাজ্যে বিজেপি র সরকার হলে এই সব সুবিধাই মিলবে, একে “মোদির গ্যারান্টি” বলে জোর গলায় আশ্বাস দেন৷
রাজ্যে যত রকমের দুষ্কর্ম, সবেতেই টিএমসি আছে বলে তোপ দাগেন।
গত সপ্তাহে শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির সফর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দ্রৌপদী মুর্মু-কে অপমান সমগ্র আদিবাসীদেরই অপমান। রাজ্যে এই সরকার ও দল অরাজকতা কায়েম করেছে, বিচার বিভাগ, বালাকোটের শহিদ জওয়ান, সংবিধান ইত্যাদি কিছুই মানে না, অবমাননা করে।
এই সরকারের আর থাকা উচিত কিনা জনতার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। বিপুল জনতার গর্জন ওঠে, থাকা উচিত নয়।
যা দেখে তৃপ্তির হাসি খেলে প্রধানমন্ত্রীর মুখে।

Be the first to comment