নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর:
জলঙ্গী নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন বাম প্রার্থী লাবণী জঙ্গি। নদী ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবনের সংকটকে ইস্যু করে রবিবার রুইপুকুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত শম্ভুনগর গ্রাম থেকে কার্যত তাঁর নির্বাচনী প্রচারের নতুন দিশা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
জলঙ্গীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা শম্ভুনগর মূলত মৎস্যজীবী অধ্যুষিত এলাকা। একসময় এই নদীকেই ঘিরে ছিল তাঁদের জীবিকা ও জীবনযাত্রা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, দখলদারিত্ব এবং স্রোতহীনতার জেরে আজ জলঙ্গী কার্যত মৃতপ্রায়। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু পরিবারে এখন জীবিকার সন্ধানে পরিযায়ী হওয়াই একমাত্র ভরসা।
এই বাস্তব চিত্র সামনে রেখেই শম্ভুনগরের পশ্চিমপাড়ায় প্রতীকী ‘মাইলস্টোন’ স্থাপন করে জলঙ্গী বাঁচানোর শপথ নেন লাবণী। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগও সারেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন সিপিএমের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
প্রচারের ফাঁকেই লাবণী বলেন, “জলঙ্গী শুধু একটি নদী নয়, এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের প্রাণ। নদী যদি শেষ হয়ে যায়, তার প্রভাব পড়বে মানুষের জীবন, জীবিকা এবং পরিবেশের উপর। তাই জলঙ্গীকে বাঁচানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানো।” তিনি আরও জানান, কৃষ্ণনগরবাসী সুযোগ দিলে বিধানসভায় এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন এবং মৎস্যজীবীসহ নদীনির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগী হবেন।
উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে লাবণীর। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বুঝতে পারছেন, জলঙ্গীর অবক্ষয় কীভাবে সরাসরি প্রভাব ফেলছে স্থানীয় অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার উপর।
অন্যদিকে, এই ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ দাবি করেন, “আমরাই সারা বছর এই বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছি। শুধু ভোটের সময় নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দরকার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে জলঙ্গী পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে।”

প্রসঙ্গত, একসময় কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই ভোটভিত্তির বড় অংশ সরে গেছে অন্যান্য রাজনৈতিক শিবিরে। ফলে লাবণীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ—হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা এবং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আস্থা অর্জন।
সব মিলিয়ে, জলঙ্গী নদীকে ঘিরে পরিবেশ ও জীবিকার প্রশ্নে ভোটের লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে কৃষ্ণনগর দক্ষিণে।

Be the first to comment