রোজদিন ডেস্ক : মালদহের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে কেউ কোনো খবর দেয়নি। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি- কেউ যোগাযোগ করছে না তাঁর সঙ্গে। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির জনসভা থেকে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে। মালদহের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ঠিক বলেছে, বিজেপির গেমপ্ল্যান এটা, কোনও উত্তেজনায় পা দেবেন না। বিজেপি চায় এখানকার নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে। এটা ওদের গেমপ্ল্যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লজ্জা নেই, উনি ভোট কাটেন, এনআইএ, সিবিআই করেন, আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইস্তফা চাইছি, বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলে দিয়েছেন অমিত শাহ, সেটাও কমিশনের সাহায্যে, নিজেরা বর্ডার সামলাতে পারে না, অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দিল্লি থেকে বাংলায় গন্ডগোল করতে আসে, মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাচ্ছে বিজেপি। এরপরেই জনগণের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান। মালদহের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। আপনারা কি জানেন না, যাঁরা আন্দোলন করেছে তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে।
বুধবার রাত থেকে উত্তপ্ত মালদহের কালিয়াচক। সাতজন বিচারককে ৮ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। তবে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধারের পর কনভয়ে পাথর ছুড়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা নিয়ে নিয়েছে। কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ। মুখ্যসচিব সহ সকলকে পাল্টে দিয়েছে। আমি আইপিএস, আইএএসদের আলাদা চোখে দেখি না। কাউকে কেরালা কাউকে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে। ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র। এখন কোনও ঘটনা ঘটলে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি কেউ যোগাযোগ করছে না। আপনারা এভাবে আমাকে অপমান করছেন। রাত ১২টায় এক সাংবাদিকের থেকে জানলাম যে বিচারকদের ঘেরাও করা হয়েছে। কেন্দ্রই যখন কন্ট্রোল করছে তখন তাদের দায়িত্ব বাংলাকে শান্ত রাখা। সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকারের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। মুর্শিদাবাদ, মালদা উত্তর দিনাজপুর জুড়ে বিজেপির প্ল্যান অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নাম বাদ গেছে। আমার ভবানীপুরে কেন্দ্রে দেড়খানা ওয়ার্ডে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখানেও ঢেলে বাদ দিয়েছে। এটা সবাই জানি। ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ গিয়েছে। তার জন্যই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট তো সত্যি কথাই বলেছে, এটা হতে পারে না। যাদের বাতিল হয়েছে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আপিল করবেন। আইনজীবী আমরা দেব। কিন্তু মনে রাখবেন, লড়াইটা আমাদের শান্তিপূর্ণ ভাবে করতে হবে। রক্ষা করুন বাংলাকে। হিন্দু মুসলমান জোট বাঁধুন, এটা গণতন্ত্রের লড়াই, বাংলা বাঁচানোর লড়াই। আমি সাম্প্রদায়িকতায় নয়,
স্যেকুলারিজমে বিশ্বাস করি, আমি দাঙ্গা সমর্থন করি না।

Be the first to comment