রোজদিন ডেস্ক :
কালিয়াচকের গতকালের ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলো শীর্ষ আদালত। আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনায় একরাশ ক্ষোভ ব্যক্ত করে এই বিষয়ে মুখ্যসচিব, ডিজি, জেলাশাসকের জবাব তলব করেছেন। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের বক্তব্য কার্যত থামিয়ে দিয়ে ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই রাজ্যের সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন।
এসআইআরের কাজে যুক্ত তিন মহিলা-সহ বিচার বিভাগের সাত আধিকারিককে যেভাবে টানা কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এতে স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশন এতে সিবিআই, এনআইএ তদন্ত চাইতে পারে বলেও তাঁরা জানিয়ে দেন। এই ঘটনা পুর্বপরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও তাঁরা জানিয়ে দেন। তাঁরা পরিস্কার জানান, এইভাবে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের মানসিক আঘাতের উদ্দেশ্যে কাউকে হস্তক্ষেপ করতে বা নিজের হাতে আইন তুলে নিতে তাঁরা কখনোই দেবেন না। এই ঘটনা শীর্ষ আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করার সামিল বলে তাঁরা মনে করেন।
কালিয়াচকে তিন মহিলা-সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শীর্ষ আদালত আরও জানিয়ে দেয়, এসআইআরের আবেদন জানাতে বা শুনানির সময় ২/৩ জনের বেশি ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাঁচ জনের বেশি জমায়েতও করা যাবে না। ডিএম, জেলা পুলিশ আধিকারিকদের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে বলে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।
আগামী ৬ এপ্রিল এই সব নিয়ে মুখ্যসচিব, ডিজি, ডিএমকে বিকেল চারটেয় অনলাইনে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কালিয়াচকের ঘটনায় উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি-কে ফোন করেন। তাঁরা প্রধান বিচারপতির বাড়ি যান। গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেন।

Be the first to comment