রমিত সরকার, কৃষ্ণনগর:
ভোটের আবহে সাধারণত শহর জুড়ে চোখে পড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পতাকা, ফ্লেক্স ও ব্যানারের রঙিন উপস্থিতি। প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বানেই ভরে ওঠে দেওয়াল থেকে রাস্তার মোড়। কিন্তু সেই পরিচিত ছবির মাঝেই কৃষ্ণনগর শহরে ধরা পড়ল একেবারেই আলাদা এক দৃশ্য—যেখানে নেই কোনও দলীয় প্রচার, নেই রাজনৈতিক স্লোগান; বরং রয়েছে এক নদীকে বাঁচানোর আর্তি।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সম্প্রতি নজর কেড়েছে ‘সেফ জলঙ্গি’ নামে একটি সমাজসেবী সংগঠনের ব্যানার ও পোস্টার। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে জলঙ্গি নদীর ক্রমশ অবনতিশীল অবস্থার কথা এবং তার অবিলম্বে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা। ব্যানারে লেখা বার্তা—আজই উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনে এই নদীও হারিয়ে যেতে পারে ইতিহাসের পাতায়।

স্থানীয়দের মতে, জলঙ্গি নদী একসময় কৃষ্ণনগরের জীবনরেখা ছিল। কৃষি, মৎস্যচাষ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার নানা ক্ষেত্রে এই নদীর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নদীর পলিমাটি জমে ভরাট হওয়া, অবৈধ দখল, দূষণ এবং নিয়মিত সংস্কারের অভাবে তার স্বাভাবিক প্রবাহ অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জীবিকা হারাচ্ছেন বহু মানুষ।
‘সেফ জলঙ্গি’র সদস্যদের বক্তব্য, “রাজনীতির বাইরে গিয়ে এই বিষয়টি সকলের ভাবা উচিত। ভোট আসে যায়, কিন্তু নদী একবার মরে গেলে তাকে ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।” তাঁদের দাবি, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করাই এই প্রচারের মূল লক্ষ্য।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের অনেকেই। তাঁদের মতে, ভোটের সময় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত ইস্যুকে সামনে আনা সত্যিই প্রশংসনীয়। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলিরও উচিত নিজেদের প্রচারে এই ধরনের স্থানীয় সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া।
ভোটের উত্তাপে যখন চারদিক উত্তাল, তখন কৃষ্ণনগরের এই ব্যতিক্রমী বার্তা যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে—উন্নয়নের আলোচনায় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা সমানভাবে জরুরি। জলঙ্গি বাঁচানোর এই ডাক শেষ পর্যন্ত কতটা সাড়া পায়, এখন সেটাই দেখার।

Be the first to comment