প্রতিবেদন: বাংলায় আজ শিক্ষা গুরুরা বঞ্চিত ও অত্যাচারিত। এভাবেই শনিবার বিকেলে রোটারি সদনে দেশবাঁচাও গণমঞ্চের শিক্ষক দিবসের (TEACHER’S DAY) অনুষ্ঠান থেকে বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিশনারিজ অফ চ্যারিটি থেকে বেরিয়ে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন মমতা। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সারাক্ষণ আমাদের ওপর, আমাদের দলের কর্মীদের নজরদারি চালাচ্ছে। তাই আমি বলেছিলাম হলে এই প্রোগ্রাম করতে। কারণ, জানতাম, বাইরে করতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হত না। এরপর শিক্ষক দিবসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষা গুরুরা যা শিখিয়েছেন, আমরা মনে করি সেটা আমাদের জীবনের সবথেকে বড় পাওনা। কারণ ওইটুকু শিক্ষা না পেলে বড় হওয়া যায় না। জীবনে সব কিছু ভুলে গেলেও আমরা শুরুটা কখনও ভুলি না। ভুল করলে সেটা নিজেদের, কিন্তু ঠিক কাজ করলে সেটা তাদের কৃতিত্ব। আজকের দিনে সমস্ত শিক্ষক সমাজকে অধ্যাপক সমাজকে সকলকে জানাই শ্রদ্ধা ও প্রণাম। নন্দনে উত্তমস্মরণ অনুষ্ঠান নিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ভেতরে প্রোগ্রাম হচ্ছে, আর বাইরে সারা চত্বর মাইক লাগিয়ে দিয়েছে। এসব আমরা তো জীবনে দেখিনি। আমি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব করেছি। প্রতি বছর কখনও এসব দেখিনি। প্রচারসর্বস্ব একটা রাজনৈতিক দল হল এই বিজেপি। এরা নীতিহীন, রুচিহীন, ভাষাহীন, সংস্কৃতিহীন, সম্প্রীতিহীন একটা দল। দেশটাকে এরা চেনে না, বাংলাকেও এরা চেনে না। আমাদের রাজ্য সরকার এমপিদের টাকা দিয়ে স্কুল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছি। শিক্ষকদের জন্য অনেক কাজ করেছি। আমরা যে যে কাজ করে রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন করলেই তো অনেকটা কাজ হয়ে যায়। এখন শুনছি এমএসকে, এসএসকে শিক্ষকরা বেতন পায় না। যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা তৈরি ছিল, মে মাসে তাদের নিয়োগ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মেধাই আসল মেধা যে মানব তৈরি করে। ধর্মের নামে কর্ম তৈরি করে। ধর্মের নামে বিধর্মী তৈরি করে না। আমি কোনও ধর্মের লোক আমার আইডেন্টিটি কি সেটা কি আমাকে সকাল সন্ধ্যা পুজো পাঠ করে বলতে হবে? শ্রীরামকৃষ্ণকে পড়লেও ধর্ম জানা হয়, আম্বেদকরের সংবিধান পড়লেও ধর্ম জানা হয়।।
হকার উচ্ছেদ নিয়ে তোপ দেগে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে জীবন, জীবিকা কেড়ে নিচ্ছেন কেন? দোকান ভেঙে দিচ্ছেন কেন? মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে বঞ্চিত করছেন কেন?

Be the first to comment