রোজদিন ডেস্ক :
ভবানীপুর থানার সামনে বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর দায়ে গ্রেফতার হওয়া কংগ্রেস নেতা অতনু দাসের জামিন মিললো না। তাঁকে চারদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত দের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া মাত্র তৎপর হয় পুলিশ। কাল রাতেই টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার সম্পাদক অতনু দাস কে গ্রেফতার করে পুলিশ। দলের অপর দুই বিশিষ্ট নেতা আশুতোষ চ্যাটার্জি ও প্রদীপ প্রসাদের বিরুদ্ধেও এফ আই আর দায়ের করেছে পুলিশ।
আজ আলিপুর আদালতে অতনু দাস কে তোলা হলে তাঁর সাত দিনের হেফাজত চায় পুলিশ।
ধৃত অতনু দাসের আইনজীবী দাবি করেন, এই গ্রেফতার বেআইনি। প্রতিবাদ করা সাংবিধানিক অধিকার।
বিচারপতি তাঁর ও সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য শুনে তাঁকে ১৪ সেপ্টেম্বর অবধি পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
অতনু দাসের আইনজীবী এই ঘটনায় ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, যিনি ( বাগেশ্বর বাবা) গোটা ( বাঙালি) জাতি কে অপমান করলেন, তাঁকে ছেড়ে অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের ধরছে!! তাঁদের গ্রেফতার করতে মুখ্যমন্ত্রী বিধান সভা থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন!! এটা কি বিচার ব্যবস্থায় সম্ভব বলে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ধৃত অতনু দাসের বাড়ির দরজায় লাথি মারা হয়েছে। তিনি কি জঙ্গি?
যে দল দেশের স্বাধীনতা এনেছে, তাদের দলীয় নেতার সঙ্গে এই ব্যবহার? এরা ( বিজেপি) ব্রিটিশদের দালালি করেছে, তাই গণতন্ত্র বোঝে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পোস্টার পুড়িয়ে, ছবিতে জুতো মেরে, অপমানজনক কথা বলেছেন।। আরও এক ধাপ ওপরে গিয়ে এই ঘটনার মামলাকারী আইনজীবী বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের নেপথ্যে জঙ্গি সংগঠন থাকতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।। এমন কি এর সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গি যোগ ও থাকতে পারে বলেন। পুলিশকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি করেন।
তাঁর এই সব মন্তব্যে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার একে ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন বলে তীব্র ধিক্কার জানান। তাঁরা এর বিরুদ্ধে রাজ্যে প্রতিবাদ আন্দোলন করবেন।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পৃথক ভাবে অতনু দাসকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা করেন।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী এর নেপথ্যে তৃণমূল আমলের কার্টুন কান্ডের ছায়া দেখছেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পূর্বসূরিকেও (মমতা ব্যানার্জি) ছাপিয়ে যেতে চাইছেন বলে কটাক্ষ করেন।
মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পৃথকভাবে বলেন, যিনি বাঙালিকে অপমান করলেন, সেই বাগেশ্বর বাবাকে আড়াল করছে সরকার।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে নিশানা করে বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও নির্ধারণ করে দিচ্ছেন আইন কোন পথে চলবে! বারুইপুর থেকে বাগেশ্বর বাবা, সবই তিনি ঠিক করে দিচ্ছেন। রাজ্যে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হচ্ছে বলে শুভঙ্কর সরকার উদ্বেগ ব্যক্ত করেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নয়, তিনি বিজেপি নেতার মত আচরণ করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। এর বিরুদ্ধে তাঁদের প্রতিবাদ জারি থাকবে বলে দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দেন।

Be the first to comment