রোজদিন ডেস্ক : বিধানসভা আদতে মানুষের কথা বলার জায়গা। কিন্তু সচিবালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা দেখলে মনে হবে এটি বোধহয় কোনও সুরক্ষিত দুর্গ বা অভিজাত ক্লাব। শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার যুক্তিতে যে অলঙ্ঘনীয় ঘেরাটোপ তৈরি করা হচ্ছে, তাতে লুকিয়ে রয়েছে এক অদ্ভুত আমলাতান্ত্রিক অমূলক ভীতি। মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিষিদ্ধ করার ফতোয়া দিয়ে যার শুরু। প্রযুক্তি যখন গোটা বিশ্বকে স্বচ্ছতার আলোয় নিয়ে আসছে, তখন বিধানসভার জন্য এই ফতোয়ার কী কারণ থাকতে পারে? সমীকরণটা খুব সহজ। উদ্দেশ্যটা নিছক নিরাপত্তা নয়, আসল উদ্দেশ্য হল ‘অপটিক্স কন্ট্রোল’ বা দৃশ্যপট নিয়ন্ত্রণ। কক্ষের ভিতরের কোনও অস্বস্তিকর মুহূর্ত, জনপ্রতিনিধিদের কোনও অসংলগ্ন আচরণ বা শাসকদলের অস্বস্তির কারণ হতে পারে এমন কোনও দৃশ্য যাতে সরাসরি বাইরের দুনিয়ায় পৌঁছাতে।পারে এটা তারই নিঁখুত বন্দোবস্ত। সংবাদ মাধ্যমের প্রতি নির্দেশিকাটি আরও কৌতূহলজনক। নির্দিষ্ট বারান্দা আর আম্বেদকর মূর্তির পাশের নির্দিষ্ট একটি ঘরে সাংবাদিকদের কার্যত ‘কোয়ারেন্টাইন’ করে রাখার যে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, তা অভিনব। সহজ ভাবে এর একটাই মানে, আপনারা ততটুকুই দেখবেন, যতটুকু আমরা দেখাতে চাই। যেখানে খুশি হাঁটাচলা বা প্রশ্ন করার অধিকার এখন নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। সাংবাদিকরা এখানে নিয়ন্ত্রিত দর্শক মাত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গেট এবং গাড়ির শ্রেণি বিভাজন। ট্যাক্সি বা ভাড়াগাড়ির প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আলাদা গেট, বিধায়কদের জন্য আলাদা, সচিবালয়ের কর্মীদের জন্য আলাদা।হলোগ্রাম-যুক্ত স্টিকার আর পাস ছাড়া এই আধুনিক দুর্গে সাধারণের প্রবেশ এখন রীতিমতো গোলকধাঁধার মতো। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু নিরাপত্তার মোড়কে এটা কি তথ্য নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নয়?

Be the first to comment