লক্ষ কোটি দীপের আলোকমালায় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা

Spread the love

পিয়ালি :

‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও’ — হ্যাঁ, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কবিগুরুর এই গানের কলি সত্য করে ভুবনভরা আলোয় সজ্জিত হবে সারা দেশের সঙ্গে আমাদের রাজ্য। উপলক্ষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। একথা আমাদেরই অনেকেরই জানা ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির শুভ জন্মদিন। এই উদযাপনের পাশাপাশি আছে আরও একটি উপলক্ষ। তা হল প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী ও পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকার (তখতে বসার) রেকর্ড গড়েছেন। ৭ অক্টোবর সেই রেকর্ড গড়ার দিন। তাই ১৭ সেপ্টেম্বর ও ৭ অক্টোবর সারা দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পশ্চিমবঙ্গ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাবে।

এই উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর দফতরের সচিব ও আধিকারিকরা এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বিভিন্ন জেলার সঙ্গে তাঁরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই আনন্দঘন উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি বৈঠক সারেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম ১৭ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন করব। তার পাশাপশি ‘আশীর্বাদো কি দিয়া’ নামে এক কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশ হৃদয়হরা আলোক উৎসবে মেতে উঠবে। আমাদের রাজ্যে ১ কোটির বেশি পরিবার বা তারও বেশি পরিবারকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনে অংশীদার করা হবে। কলকাতাতে গঙ্গার তীরগুলি দীপের আলোর আলোকিত হবে। এর পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-সহ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলি এবং রাইটার্স, নবান্নের মতো প্রশাসনিক ভবনগুলিও আলোকমালায় সজ্জিত হবে। কালীঘাট মন্দির-সহ অন্যান্য মন্দিরগুলিতে প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হবে। রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলকে এই অনুষ্ঠানে সংযুক্ত করা হয়েছে। ৮০ হাজারের বেশি স্কুল এবং তার ছাত্রছাত্রীরা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছেন।

এর পাশাপাশি ২০৪৭-এ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের ভারত ‘বিকশিত ভারত’ কেমন হওয়া উচিত তা নিয়ে ‘বাচ্চোকে স্বপ্নোকা ভারত’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে ড্রয়িং, কুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক ইত্যাদির আয়োজন করা হবে। স্কুল শিক্ষা দফতর এই কর্মসূচি রূপায়িত করবে। এ ছাড়া বাইক র‍্যালি, পদযাত্রা, সাইকেল র‍্যালি ইত্যাদিও অনুষ্ঠিত হবে। এই র‍্যালির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’।

‘নমো সেবা গাথা’ নামে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘কাহানি বদলাওকি’ অর্থাৎ বিভিন্ন প্রকল্পের (পিএম কিষাণ, আয়ুষ্মান ভারত, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, এমএসিপি বৃদ্ধি ইত্যাদির) মাধ্যমে উপভোক্তারা যে উপকৃত হয়েছেন, তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে তা নিয়ে ‘অঙ্গন কা উৎসব’ পালিত হবে।

১৭ সেপ্টেম্বরের পরে আরও বড় অনুষ্ঠান হবে ৭ অক্টোবর। ওইদিন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদির শাসনকালের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। দেশের সমস্ত জেলা, শহর-কে ভার্চুয়ালি যুক্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সেবা মেরা যোগদান’ ও ‘সেবা সেতু অভিযান’ নামে দুটি অনুষ্ঠান হবে। ‘রঙ্গোলি রাষ্ট্র’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ আলপনায় সজ্জিত হবে। পর্যটন দফতর ও বন দফতর একযোগে অনুষ্ঠান করবে। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি যেমন বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে একটি বড় কর্মসূচি পালিত হবে। মুখ্যসচিবের নির্দেশে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর আগামীকালের মধ্যে এ বিষয়ে সর্বস্তরে অবহিত করবেন। মহালয়ার মাতৃপক্ষের সূচনার আগেই এই কর্মসূচি সফলভাবে সমাপ্ত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আশা করেন, ‘ওয়ার্ল্ড যোগা ডে’ ও ‘ঘর ঘর তিরঙ্গা’র মতো কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে পালিত হবে। এবং অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠানগুলি সর্বোত্তম করার চেষ্টা করবে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন থাকায় সেখানে কোনও প্রশাসনিক অনুষ্ঠান হবে না। তবে রাজনৈতিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত স্তরে অনুষ্ঠান পালন করা যাবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*