চন্দ্রবাবু নাইডুর পথেই হাঁটলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; পড়ুন বিস্তারিত!

Spread the love
পশ্চিমবঙ্গেও তদন্ত চালাতে গেলে রাজ্য সরকারের আগাম অনুমতি নিতে হবে সিবিআইকে। শুক্রবার রাতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। দিল্লি স্পেশাল পুলিস এস্টাবলিসমেন্ট অ্যাক্টে সিবিআইকে যে সাধারণ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্ধ্রের চন্দ্রবাবু নাইডুও একই নির্দেশ জারি করে সে রাজ্যে বিনা অনুমতিতে সিবিআইয়ের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নবান্নের এই নির্দেশের পর এখন সিবিআই এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি নিজের থেকে তদন্তের কাজে রাজ্যে হানাদারি চালাতে পারবে না।
ফলে কেবল রাজ্যের নয়, রাজ্যে কর্মরত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাও সিবিআই বা অন্য এজেন্সিগুলির হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাবেন। শুক্রবার নবান্নে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব সহ একাধিক পদস্থ আমলা ও আইনজ্ঞদের সঙ্গেও আলোচনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ নেন। তবে এই নির্দেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের নির্দেশে চলা কোনও মামলার ক্ষেত্রে সিবিআই বা অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির তদন্ত চালানোয় কোনও বাধা থাকবে না বলে মনে করছে আইনজীবীদের একাংশ। বামফ্রন্ট সরকার ১৯৮৯ সালে সর্বশেষ এই অনুমতি দিয়ে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্রকে।
তাঁর রাজ্যে ঢোকার আগে সিবিআই অফিসার-কর্মীদের আগাম অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্র্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। রাজ্যকে প্রথমে না জানিয়ে সিবিআইকে তদন্ত করার আগেকার অনুমতি প্রত্যাহার করে নয়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে অন্ধ্রে। বলা হয়েছে, দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্টকে দেওয়া সাধারণ অনুমতি তুলে নেওয়া হল। ১৯৪৬ সালের দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট আইনেই সিবিআই তৈরি হয়েছিল। এই নতুন নির্দেশের পর সিবিআই আর অন্ধ্রের ভিতরে কোনও মামলায় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সম্প্রতি সিবিআইয়ের ভিতরকার কেলেঙ্কারির পর রাজ্য সরকার তাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও সমাধান না হওয়া মামলার তদন্তে রাজ্য আর সিবিআইয়ের ওপর নির্ভর করবে না। সিবিআইও অন্ধ্রে কোনওরকম তল্লাসি চালাতে পারবে না। এখন তা করবে অন্ধ্রের দুর্নীতিদমন শাখা। বরং তারা এখন থেকে কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর ও প্রতিষ্ঠানে তল্লাসি চালাতে পারবে।
চন্দ্রবাবু এর আগে বারবার অভিযোগ তুলেছিলেন, সিবিআই ও আয়কর দফতরকে দিয়ে কেন্দ্র অন্ধ্রকে ভয় দেখাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চন্দ্রবাবুর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি বলেন, সিবিআইকে তাঁর রাজ্যে সিবিআইকে ঢুকতে না দেওয়ার কথা বলে ঠিক করেছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*