টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলার মানুষকে কিনতে এসেছেন, অমিত শাহর সংকল্পপত্রের পাল্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক :

দশ এপ্রিল দুপুরে রাজ্যে এসে বিজেপির  সংকল্পপত্র প্রকাশ করেন অমিত শাহ। তার কিছুক্ষণ পরেই  এদিন  সন্ধ্যা পাঁচটায় তৃণমূল ভবনে সংকল্পপত্রের পাল্টা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপির দেওয়া ১৫ প্রতিশ্রুতিকে একে একে খন্ডন করেন অভিষেক।

এদিন সংকল্পপত্রে দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বলেন অমিত শাহ। এ বিষয়ে অভিষেক বলেন দুর্নীতি নিয়ে বলার অধিকার বিজেপির নেই। কাকে পাশে বসিয়ে দুর্নীতির কথা বলছেন। তিনি বলেন যাদের বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ যেমন হেমন্ত বিশ্ব শর্মা, শুভেন্দু অধিকারী, নারায়ন রানে অজিত পাওয়ার, প্রেমা খান্ডু -তাদের ইডি সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে অথচ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তারা সবাই ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া হয়ে গেল।

তিনি জনৈক জয়দেব খাঁকে কয়লা মাফিয়া বলে উল্লেখ করে তার সঙ্গে অমিত শাহর একটি ছবি দেখান।

এর পাশাপাশি শ্বেতপত্র বিষয়েও অভিষেক বলেন আমি দু-বছর আগে (৭৫৭ দিন আগে) আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজে বঞ্চনার বিরুদ্ধে শ্বেতপত্র প্রকাশের কথা বলেছিলাম সেটা কি করেছেন?

তবে সবচেয়ে বেশি অভিষেক সরব হন মহিলা এবং যুবকদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন অর্থের বিনিময় বাংলার মানুষকে, টাকার প্রলোভন দিয়ে বাংলার মহিলাদের কিনতে এসেছেন?

দিল্লিতে তো মহিলাদের মাসের আট তারিখের মধ্যে আড়াই হাজার টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন । দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তো বাংলার প্রচারে একটা টাকাও মানুষের একাউন্টে পড়েনি।

বিজেপির প্রতিশ্রুতিপত্রকে অভিষেক বলেন চিটফান্ডের প্রতিশ্রুতিপত্র।

মৎস্যজীবীদের উন্নয়নের কথা সংকল্প পত্রে বলেছে বিজেপি। অভিষেক বলেন যারা মাছ খাওয়া নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে, আমাদের খাদ্যাভাস নিয়ে বিদ্রুপ করে, তারা আবার এ সব কথা বলছে।

অভিষেক বলেন, অমিত শাহ যা বলেছেন তাতে পরোক্ষে বোঝায় দিল্লি গুজরাট থেকে বাংলা নিয়ন্ত্রণ হবে যদি তারা ক্ষমতায় আসেন।

চা-শ্রমিক এবং চা-বাগানের উন্নয়নের কথা আছে বিজেপির সংকল্প পত্রে। এ বিষয়ে অভিষেক বলেন যারা চা-শ্রমিকদের ন্যায্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা দেন না তারা দার্জিলিংয়ের চা-কে কি বিশ্বজনীন করবেন? দার্জিলিংয়ের চা তো এমনি বিশ্বজনীন।অমিত শাহ কি দার্জিলিং ছাড়া আর কোথাওকার চা খান।

প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন যারা নিজেদের চাওয়ালা বলে ক্ষমতায় এসেছেন তারা কি একটিও চা-বাগান (তা দার্জিলিং বা অসম যেখানকার হোক না কেন) খোলায় সদর্থক ভূমিকা পালন করেছেন?

কুরমালী ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপশীলের স্থান দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ (কেন্দ্রকে আক্রমণ) করেন অভিষেক। তিনি বলেন কত বড় জালি সরকার! বারবার তিনি বলেন এইসব আর্থিক প্রতিশ্রুতি পুরোটাই জুমলা।

তবে বিজেপির তিন হাজার টাকা মহিলা ও যুবকদের দেওয়ার যে প্রতিশ্রতি সংকল্প পত্রে আছে, তাতে তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাঙ্ক এবং নতুন ভোটারদের অর্থাৎ যুবকদের ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারে সেটা অভিষেকের বার বার এই বিষয়ে আক্রমণ দেখেই বোঝা যায়। দিদি বলেন যদি টাকা দিতেই হয় তাহলে ক্ষমতায় আসার পর কেন, আপনারা তো কেন্দ্র সরকারে আছেন, এখনই মহিলা ও যুবকদের একাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দিন।

পরোক্ষে বিজেপিকে বহিরাগত বলে উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, উত্তর ভারতের কালচার বাংলায় চাপাতে চাইছে বিজেপি। এরা এলে দুর্গাপূজা বন্ধ করে রামের নামে অস্ত্রের ঝনঝনানি চলবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*