এই বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিলে আবার দূষ্কৃতীরাজ ফিরবে, বরাবনিতে অভিষেক

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। শনিবার সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা। স্থানীয় পানুরিয়ায় এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন ছিল স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা, অন্যদিকে ছিল তীব্র সমালোচনা। বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ রায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, তাঁকে ভোট দিলে বরাবনিতে দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য ফিরে আসবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

এই সভা বরাবনির তৃণমূল প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়-এর সমর্থনে আয়োজিত হয়েছিল। মঞ্চ থেকে বিধান উপাধ্যায়কে জেতানোর আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বলেন, তৃণমূল সরকার সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে এবং উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকার চেহারা বদলে দিয়েছে। গত কয়েক বছরে বরাবনিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, পুলিশ কমিশনারেট গঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন। তাঁর মতে, এই উন্নয়নগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, জেলার বিজেপি পার্টি অফিসগুলো এখন কয়লা চোরদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিজেপি নেতারা দুর্নীতিতে জড়িত এবং তারা মানুষের স্বার্থের বদলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে বেশি মনোযোগী। গদ্দার বলেও তিনি বিজেপি নেতাদের সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, বিজেপি সবসময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, কিন্তু নিজেদের কাজের কোনও হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরে না। এই প্রসঙ্গে তিনি বিজেপি নেতাদের খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, আপনারা এতদিন কী কাজ করেছেন, তা প্রকাশ করুন। আমরাও আমাদের কাজের বিবরণ জনগণের সামনে তুলে ধরব। তাঁর এই চ্যালেঞ্জকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সভায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে দাবি করেন, রাজ্যের উন্নয়নের পথে বারবার বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তবুও তৃণমূল সরকার মানুষের স্বার্থে কাজ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। এই জনসভা থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল উন্নয়ন এবং জনকল্যাণ মূলক কাজকে হাতিয়ার করেই ভোটের ময়দানে নামছে। অন্যদিকে বিজেপিকে দুর্নীতি ও অরাজকতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার কৌশলও স্পষ্ট। ফলে বরাবনির নির্বাচন যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*