রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডার মাঝেই ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক ভারতে বাণিজ্যের ছাড়পত্র পেল। শুক্রবার টেলিকম দফতর (ডিওটি) সূত্র সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, স্টারলিঙ্ক বাস্তবিকই লাইসেন্স পেয়েছে। এবার ভারতে স্যাটকম পরিষেবা অর্থাৎ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করতে পারবে স্টারলিঙ্ক।
তবে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর জন্য ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন-স্পেস-এর চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে হবে স্টারলিঙ্ককে। সম্প্রতি স্টারলিঙ্কের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে অম্বানির রিলায়্যান্স জিও এবং মিত্তাল গোষ্ঠীর ভারতী এয়ারটেল। দেশের টেলিকম বাজারের ৭০ শতাংশেরও বেশি এই দু’টি গোষ্ঠীর দখলে। স্টারলিঙ্ক দীর্ঘ দিন ধরেই ভারতের বাজার ধরার চেষ্টা করছিল।
এবার মাস্কের সংস্থাকে ট্রায়াল স্পেকট্রাম-এর জন্য আবেদন জানাতে হবে। ডিওটি জানিয়েছে, স্টারলিঙ্ক আবেদন জানানোর ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তাদের ট্রায়াল স্পেকট্রাম দেওয়া হবে। এর একমাস আগে টেলিকম দফতরের তরফে স্টারলিঙ্ককে ‘লেটার অফ ইনটেন্ট’ জারি করা হয়।
স্যাটকম লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিক স্যাটকম স্পেকট্রাম হাতে পেতে আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে স্টারলিঙ্ককে। সম্প্রতি দেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা (টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, ট্রাই) দাম, শর্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। রেডিয়ো ওয়েফ ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের পরপরই লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিগুলি তাদের পরিষেবা শুরু করে দিতে পারবে।
এছাড়া বাণিজ্যিক স্পেকট্রাম হাতে পাওয়ার আগে ট্রায়াল স্পেকট্রাম নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে স্টারলিঙ্ককে। ট্রায়াল স্পেকট্রামে স্টারলিঙ্কের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। তারা দেশের নিয়ম-নীতি কতটা মেনে চলছে এবং তাদের পরিষেবার সুরক্ষার দিকটিও পর্যালোচনা করা হবে। স্টারলিঙ্ককে চূড়ান্ত সম্মতি দেবে ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন-স্পেস। তারা কখন ছাড়পত্র দেবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, এয়ারটেল-এর ইউটেলস্যাট ওয়ান ওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন-এর পর স্টারলিঙ্ক তৃতীয় সংস্থা হিসাবে টেলিকম দফতরের থেকে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবার লাইসেন্স পেল। চতুর্থ অ্যামাজনের কুইপার এই ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। স্টারলিঙ্ককে ভারতের নিরাপত্তাজনিত নিয়ম-নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকা সফরে যান। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এমনকী তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও দেখা করেন এবং মাস্কের সন্তানদের উপহার দেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইলন মাস্ক মার্কিন সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-র প্রধান পদে ইস্তফা দিয়েছেন। কর সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য এখন খবরের শিরোনামে। গতকাল রাতে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট ওভাল অফিসে প্রকাশ্যে বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তির সঙ্গে বচসায় জড়ান। এর মধ্যে মাস্কের সংস্থার জন্য সুখবর দিল ভারত।
It was also a delight to meet Mr. @elonmusk’s family and to talk about a wide range of subjects! pic.twitter.com/0WTEqBaVpT
— Narendra Modi (@narendramodi) February 13, 2025

Be the first to comment