গোটা দেশ যখন সিবিআই গৃহযুদ্ধে উত্তাল, কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা যখন তুলোধনা করছে কেন্দ্রের শাসক দলকে, নয়া দিল্লির লোধি রোডে সিবিআই সদর দফতরের দোরগোড়া থেকে যখন কংগ্রেসীরা স্লোগান তুলছে, ‘নরেন্দ্র মোদী চোর হ্যায়’, তখন দিল্লিতেই উনিশের ভোটে বিহারের ঘর গোছাতে নেমে পড়লেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ।
শুক্রবার রাজধানীতে অমিত শাহ বৈঠক করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ) নেতা নীতীশ কুমারের সঙ্গে। আলোচ্য বিষয় ছিল উনিশের ভোটে বিহারে দুই দলের আসন ভাগাভাগি। বৈঠক শেষে দুই নেতাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, দুই দলই সমান সংখ্যক আসনে লড়াই করবে। সেই সঙ্গে অমিত শাহ জানিয়ে দেন, কোন আসনে কে লড়াই করবে তা বিজেপি-র বিহার রাজ্য কমিটি নীতীশের দলের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করবে।
বিহারে মোট লোকসভার আসন ৪০টি। দুই নেতাই এ দিন জানান, শরিকদেরও সম্মানজনক আসন ছাড়া হবে। অর্থাৎ যদি দুই দলই ১৬টি করে আসনে প্রার্থী দেয় তাহলে শরিকদের জন্য ছাড়া হবে ৮টি আসন।
কিন্তু বিজেপি এবং জেডিইউ-এর সঙ্গে কি ‘হাওয়া মোরগ’ রামবিলাস পাসোয়ান উনিশের ভোটে থাকবেন? সঙ্গে থাকবে কি উপেন্দ্র কুশহওয়ার রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি?
আত্মবিশ্বাসের সুরে বিজেপি সভাপতি জানিয়ে দেন, “উপেন্দ্রজি এবং রামবিলাসজি আমাদের সঙ্গেই আছেন। উনিশের ভোটে চার পার্টির জোট লড়বে বিহারে। বিরাট জনসমর্থন নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী।” কিন্তু কে কত আসনে লড়বে তা কয়েকদিন বাদে জানানো হবে বলে জানান বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি।
প্রসঙ্গত, চোদ্দর লোকসভায় বিহারে বিজেপি-র জেতা আসন ছিল ২২টি। অন্য দিকে জেডিইউ জিতেছিল মাত্র দুটি আসন। কিন্তু তারপর কোশী, গণ্ডক দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। বিজেপি-বিরোধী প্রচার তুঙ্গে তুলে, লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র সঙ্গে জোট করে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ। পরে আবার সেই জোট ভেঙেও যায়। ‘ডিগবাজি’ খান প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। এখন বিজেপি-র সমর্থনেই বিহারের সরকার চালাচ্ছেন নীতীশ কুমার।
এনডিএ-এর শরিক হিসেবেও ঘোষণা করেছেন নিজেদের। কিন্তু উনিশের ভোটে আসন সংখ্যা সমান সমান রাখার ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন পোড় খাওয়া এই রাজনীতিক। সংবাদ মাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল, উনিশের ভোটে একটিও বেশি আসনে বিজেপি লড়লে সেটা মেনে নেবে না জেডিইউ। এ দিনের বৈঠকের পর স্পষ্ট হয়ে গেল সমীকরণ। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটে চলা নানান ঘটনায় খানিকটা চাপেই পড়েছে বিজেপি। নাহলে কি আর ২২টি আসন জেতা রাজ্যে এত আপোস করে!

Be the first to comment