অবশেষে মিলল সাফল্য। মহারাষ্ট্রে সংরক্ষণের তালিকায় এ বার যুক্ত হতে চলেছে মারাঠিদের নামও। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ।
রবিবার সাংবাদিকদের সামনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী জানান, মারাঠিরা যে সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জানান, মারাঠিদের সত্যিই সংরক্ষণের তালিকায় আনতে হবে কিনা তা দেখার জন্য এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন গড়েছিল মহারাষ্ট্র সরকার। সেই ‘মহারাষ্ট্র ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিশন’ নিজেদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সংরক্ষণ ছাড়াও মারাঠিদের আলাদা করে সংরক্ষণ দেওয়া উচিত। কারণ দেখা গেছে মারাঠিদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই ঠিকমতো শিক্ষা পায় না।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেন, ” আমরা কমিশনের আবেদন মেনে নিয়েছি।” এই মাসের মধ্যেই সমস্ত কাগজ-পত্র তৈরি হয়ে যাবে বলেই আশা রাখছেন তিনি। তাই মারাঠিদের ১ ডিসেম্বর আনন্দ পালন করতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নতুন সংরক্ষিত শ্রেণির নাম রাখা হবে ‘সামাজিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি।’ এমনটাই জানিয়েছেন দেবেন্দ্র।
অগস্ট মাস থেকে এই সংরক্ষণের দাবিতে হাজার হাজার মারাঠি পথে নামেন। তাঁদের দাবি ছিল শিক্ষা ও চাকরির জায়গায় তাঁদেরও সংরক্ষণ দিতে হবে। পুনে, ঔরঙ্গাবাদ প্রভৃতি জায়গায় এই আন্দোলন হিংসার রূপও নেয়।
ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে ৫২ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। নতুন করে মারাঠিদের দেওয়া হবে ১৬ শতাংশ সংরক্ষণ। ফলে মোট ৬৮ শতাংশ সংরক্ষণের আওতায় চলে আসবে। মহারাষ্ট্র ছাড়া শুধুমাত্র তামিলনাড়ুতেই ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ রয়েছে। তামিলনাড়ুতে সংরক্ষণের পরিমাণ ৬৯ শতাংশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যে ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণের আওতায় আনা যাবে না।
এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ বলেন, ” বিশেষ পরিস্থিতিতে ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়া যায়। যেমনটা তামিলনাডু করেছে।” এর আগে ২০১৪ সালে কংগ্রেস ও শরদ পাওয়ারের এনসিপি যৌথভাবে মারাঠিদের জন্য ১৬ শতাংশ সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সেই সময় মুম্বই কোর্ট ও পরে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে।
তাই এই ঘোষণার পর মুম্বইয়ের এক কংগ্রেস নেতা জানান, কংগ্রেসের দেখানো পথেই চলছে বিজেপি। এতে বিজেপি’র কোনও কৃতিত্ব নেই। মারাঠিদের ভোট ব্যাঙ্ক দখলের জন্যই এই ধরণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিজেপি সরকার বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

Be the first to comment