কুইন্স বিদ্যালয়ের আবাসিক হোস্টেলে ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ডেপুটেশন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:

গত ৬ জুন ২০২৬, শনিবার কৃষ্ণনগরের কুইন্স বিদ্যালয়ের আবাসিক হোস্টেলের শৌচালয় থেকে প্রথম শ্রেণির সাত বছর বয়সি এক ছাত্রীর দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর হোস্টেলে ফিরে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে আসে ছাত্রীর পরিবার ও এলাকায়।

জানা যায়, মৃত ছাত্রীর বাবা-মা পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। তবে ঘটনার সময় বাবা কৃষ্ণনগরেই উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই অভিযোগ করা হয়, তাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার, ৭ জুন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি (এআইডিডব্লিউএ), নদীয়া জেলা কমিটির প্রতিনিধিরা মৃত ছাত্রীর বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপর কুইন্স বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং জেলার আবাসিক বিদ্যালয়গুলির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি ও ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (এসএফআই) উদ্যোগে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় একটি ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সিক্তা জোয়ারদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভানেত্রী মধুছন্দা গুহ, জেলা সম্পাদিকা সেলিনা খাতুন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুস্মিতা সরকার, রিনা আচার্য, কৃষ্ণা সাহা ও মধুমিতা রাহা-সহ জেলা ও কৃষ্ণনগর আঞ্চলিক কমিটির অন্যান্য নেতৃত্ব। তাঁদের সঙ্গে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের বিভিন্ন নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটেশন থেকে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা এবং রাজ্যের সমস্ত আবাসিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানানো হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে মৃত ছাত্রীর পরিবারসহ জেলার সাধারণ মানুষ।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*