রোজদিন ডেস্ক ::
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলা মামলার আগামী কাল রায় ঘোষণার কথা। এই প্রেক্ষিতে ক্রমেই তেতে উঠেছে ওই দেশ। আওয়ামী লিগ আগামী কাল রাজধানী ঢাকায় লকডাউন এর ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।। ক্ষমতাসীন সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে আওয়ামী লিগের নেতারা দাবি করেছেন, পরিস্থিতি যাই হোক, আগামী কালের কর্মসূচি সফল হবে৷ ঢাকাকে তাঁরা বিচ্ছিন্ন করে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
গত কয়েকদিনে ঢাকা সহ ওই দেশের বিভিন্ন অংশে বাসে আগুন, ককটেল বোমা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক নাশকতামূলক ঘটনায় আওয়ামী লিগ-কে দায়ী করছে বর্তমান সরকার। পুলিশের দাবি, এই সবের মাধ্যমে আমজনতার মনে আতঙ্ক, আশংকা দেখা দিয়েছে।
আওয়ামী লিগ নেতারা সরকার এর পুলিশের এই সব দাবি অস্বীকার করেছেন। তাঁদের পালটা দাবি, আওয়ামী লিগের ওপর দোষ চাপানোর জন্য সরকার তাদের মদতপুষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দিয়ে এই সব কাজ করাচ্ছে।
উভয় পক্ষের পারস্পরিক চাপান উতোরে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে থাকায় ওই দেশের একাংশের ভারত বিরোধিতার সুরও ক্রমেই চড়ছে। মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতীয় সাংবাদিকদের বিদেশি সাংবাদিকদের পদলেহি বলে চরম অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ ভারতীয় সাংবাদিক মহল।
এই ছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে ভারত বিরোধী প্রচার ও চলছে ওই দেশে।। বৈষম্য বিরোধীনেতাদের অনেকেই প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী বক্তব্য রাখছেন।
আওয়ামী লিগের দুই বিশিষ্ট নেতা বাহাউদ্দিন নাসিম ও মহম্মদ আলি আরাফাতের অভিযোগ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ক্যাঙারু কোর্ট বানিয়ে ভূয়ো রায় দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদেশে থাকা এই দুই নেতা জানান, এর বিরুদ্ধে তাঁরা ঢাকা লডাউন কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার জানান, গত ১১ দিনে ১৫টি জায়গায় ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে।গত ২ দিনে ৯ টি যান বাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ঢাকার মানুষ, পুলিশ, সেনা, বিজিবি প্রমুখ সবাই মিলে আওয়ামী লিগের ডাকা ঢাকা লকডাউন কর্মসুচি রুখে দেবেন বলে তাঁর দাবি।
আগামীকাল এর প্রেক্ষিতে ঢাকায় ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লিগের কর্মী সমর্থক দের ধরপাকড় ও শুরু হয়েছে। হোটেল, অতিথি আবাসগুলিতে আচমকা অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। এই অভিযান চলবে বলে জানা যায়।
পড়শি দেশের এই পরিস্থিতির ওপর ভারত সরকারও নজর রাখছে। বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কঠোর ও জোরদার করা হয়েছে।

Be the first to comment