রোজদিন ডেস্ক :
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হচ্ছেন সদ্য জেল ফেরত টিএমসি বিধায়ক পার্থ চ্যাটার্জি?? গতকালই জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। দলের পরিচিত নেতা কর্মীরা না থাকলেও একঝাঁক অনুগামী তাঁকে সাদরে স্বাগত জানিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে এসেছেন। তাঁর নামে জিন্দাবাদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে কলকাতার রাজপথ। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাবাসের পর নিজের বাড়ি ফিরে চনমনে হয়ে উঠেছেন একদা সরকারের দ্বিতীয় দাপুটে মন্ত্রী। দলের প্রাক্তন মহা সচিব।
কেন তাঁকে দল সাসপেন্ড করেছে তা জানতে চেয়ে গতকালই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন তিনি। এবার নিজের নির্বাচন কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমের ভোটার ও অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিলেন। বামফ্রন্ট আমল থেকেই এই কেন্দ্র থেকে টানা জয়ী হয়ে আসছেন তিনি। নিজের নির্বাচন কেন্দ্রের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ বজায় রেখে চলেছেন। যদিও দীর্ঘ কারাবাসে থাকাকালীন এই যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিল। বাড়ি ফিরেই ফের তা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের পরও নিজের সততা প্রমাণে সক্রিয় হয়েছেন। সূত্রের খবর, বেহালা পশ্চিমের অধিবাসীদের কাছে জানতে চেয়ে ছেন, চাকরি দেওয়ার নামে কার কাছে তিনি টাকা নিয়েছেন? এমনকি তাঁর সততার ছবিকে যাঁরা কালিমালিপ্ত (!!) করতে চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ছেড়ে দেওয়াও সামাজিক অপরাধ বলে পার্থ চ্যাটার্জি মনে করেন। তাঁর এই সব বক্তব্যে দলের অন্দরেও গুঞ্জন উঠেছে। কে তাঁর মূল নিশানায়, তা আন্দাজ করতে পারলেও এই নিয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। ২০০১, সাল থেকে একটানা জিতে আসা এই আসন যে তিনি সহজে ছাড়বেন না, তা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি বান্ধবী বৈশাখী ব্যানার্জিকে নিয়ে টিএমসি-তে ফিরেছেন। তাঁর স্ত্রী রত্না চ্যাটার্জি বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শোভন চ্যাটার্জি প্রার্থী হবেন কিনা এখনও পরিস্কার নয়। তবে পার্থবাবু ফিরেই যে ভাবে নিজের পুর্ব গরিমা ফিরে পেতে তৎপর হয়েছেন, তা নিয়ে অস্বস্তিতে দল। শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর মন্ত্রিত্ব, দলের মহা সচিবের পদ দুইই গেছিল। এমন কি দল তাঁকে সাসপেন্ডও করেছে। যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এবার আগামী বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন তাঁর পাখির চোখ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।
বাড়ি ফিরেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের জন্য ফের “জনবাক্স “, ও চালু করে দিয়েছেন।
বিধান সভার আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে ও যোগ দিতে আগ্রহী তিনি। বেহালা পশ্চিমের আমজনতার কাছেই বিচার চাইতে যাবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সহ দলের কেউ এখন অবধি তাঁকে নিয়ে মুখ খোলেন নি। সকলেই মুখ্যমন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত নেন তার অপেক্ষায় আছেন বলে জানা যায়।

Be the first to comment