‘ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ’। পশ্চিমবঙ্গের নামকরা সব স্কুলের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হচ্ছে এক নলেজ গেম শো। আয়োজন করছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল সেল।
মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ডিজিটাল সেলের যুগ্ম আহ্বায়ক কর্নেল দীপতাংশু চৌধুরী ও সুপর্ণ মৈত্র। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমানে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে যে পরিবর্তন এসেছে তার সুফল-কুফল সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্যই আয়োজন করা হয়েছে এই নলেজ গেম শো’র।
রাজ্যের সমস্ত প্রথম সারির স্কুলের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের এই শো-তে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। বলা হয়েছে, এই শো-তে ছাত্র-ছাত্রীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, ও তার ফলে ডিজিটাল দুনিয়া সম্বন্ধে তাদের জ্ঞান বাড়বে, এটাই এই শোয়ের মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘ ১০ বছর পর কুইজ মাস্টার ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই শো পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন। প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ডিজিটাল টিমের সঙ্গে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িয়ে রয়েছেন ডেরেকও।
নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের মাথায় রয়েছে অন্য অঙ্কও? অনেকে মনে করছেন, উনিশে লোকসভা ভোট। তার আগে এই ডিজিটাল চ্যালেঞ্জ শো-র মাধ্যমে প্রথমবার ভোটারদের সঙ্গে একটা ‘কানেকশন’ তৈরি করতে চাইছে তৃণমূল। অতীতে চোদ্দর ভোটে দেখা গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম কাছে টানতে সফল হয়েছিল বিজেপি। উনিশের ভোটের আগে বাংলায় বিজেপি সে ব্যাপারে সক্রিয় হবে না কে বলতে পারে!
ডিজিটাল চ্যালেঞ্জে ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অংশ নেন সে জন্য স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে দলীয় তরফে প্রস্তাব পাঠাতে শুরু করেছে তৃণমূল। সন্দেহ নেই, অধিকাংশ স্কুল, কলেজই এতে সম্মতি দেবে।
প্রসঙ্গত, ইদানীং রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের সমর্থন বাড়ানোর জন্য ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার অনেক বেশি করে। নরেন্দ্র মোদী, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকেই ডিজিটাল মিডিয়ায় সর্বক্ষণ সক্রিয় থাকেন। নিজেদের চিন্তা-ভাবনা ও বক্তব্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করেন এই ডিজিটাল মাধ্যম। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারের ষোল আনা প্রস্তুতি রাখতে সম্প্রতি বাংলায় প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করেছিল বিজেপি-তৃণমূল দু’পক্ষই। অনেকের মতে, উনিশের ভোটে মাঠে ময়দানে প্রচারের পাশাপাশি বড় লড়াই হবে সাইবার স্পেসেও।


Be the first to comment