রমিত সরকার, নদীয়া:
রাজ্যজুড়ে ভক্তি, উৎসাহ ও ধর্মীয় আবহের মধ্য দিয়ে এ বছরও পালিত হলো পবিত্র রথযাত্রা উৎসব। সেই উপলক্ষে নদীয়া জেলার বিশ্ববিখ্যাত মায়াপুর ইসকনের রাজাপুরে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য রথযাত্রা মহোৎসব। সকাল থেকেই দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধুসন্ত, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে রাজাপুর চত্বর ভরে ওঠে। হরিনাম সংকীর্তন, মৃদঙ্গ, করতাল ও ভজনের সুরে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মধ্যে ছিল প্রবল উৎসাহ ও উচ্ছ্বাস।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিকেল প্রায় তিনটে নাগাদ রাজাপুর থেকে সুসজ্জিত রথটি মায়াপুর ইসকনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। রথে বিরাজমান ছিলেন ভগবান শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রা। রথের দড়ি টানতে হাজার হাজার ভক্ত অংশ নেন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী রথের দড়ি স্পর্শ বা টানলে পুণ্য লাভ হয়—এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই ভক্তদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ।

এবারের রথযাত্রা মহোৎসবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি। তিনি স্বস্ত্রীক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের সামনে প্রতীকীভাবে পথ পরিষ্কার করে রথযাত্রার শুভ সূচনা করেন। পরে তিনি উপস্থিত ভক্তদের শুভেচ্ছা জানান এবং শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মী, সিভিক ভলান্টিয়ার ও অন্যান্য নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। গোটা এলাকা ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথ থেকে নজরদারির আওতায় রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে বসানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ছিল সর্বক্ষণ তৎপর। চিকিৎসা পরিষেবা, অ্যাম্বুল্যান্স এবং দমকলের ব্যবস্থাও রাখা হয়।
রাজাপুর থেকে মায়াপুর পর্যন্ত রথযাত্রার পুরো পথজুড়ে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ রথ দর্শন করেন এবং ভক্তিমূলক সংগীত ও সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবে সামিল হন। দেশ-বিদেশ থেকে আগত ইসকন ভক্তদের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য, ভক্তি এবং প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় এ বছরের মায়াপুর-রাজাপুর রথযাত্রা মহোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবকে ঘিরে নদীয়া জেলার অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয় এই রথযাত্রা।

Be the first to comment