বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja)— ঐতিহ্যের সঙ্গে আবেগের মেলবন্ধন

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : কলকাতা মানেই যেমন ইতিহাসের শহর, তেমনই উৎসবের শহরও। আর সেই উৎসবের মুকুটে এক অমূল্য রত্ন হলো বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো (Durga Puja)। আজও শহরের অলি-গলিতে ছড়িয়ে আছে এমন বহু প্রাসাদোপম বাড়ি, যাদের দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়—এ এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির সমাজ, সংস্কৃতি আর আবেগের ইতিহাস।

পুরনো বনেদি পরিবারগুলির পুজো শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ আমলে। তখন জমিদাররা পুজোকে ঘিরে আয়োজন করতেন জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবের। আজও শোভাবাজার রাজবাড়ি, লাহা বাড়ি, ঠাকুর বাড়ি কিংবা চৌধুরী বাড়ির পুজো ভিড় টানে হাজার হাজার দর্শনার্থী। এসব বাড়ির অন্দরমহলে এখনো বাজে ঢাক, শোনা যায় শঙ্খধ্বনি, আর মণ্ডপে সপরিবারে বিরাজিতা থাকেন দুর্গা প্রতিমা—যার রূপ গড়ে ওঠে শতাব্দীপ্রাচীন নিয়মে।

শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোতেই প্রথমবার ইংরেজ সাহেবরা অংশ নেন। সেই ইতিহাসের কথা আজও গর্বভরে বলেন বাড়ির সদস্যরা। লাহা বাড়ির পুজোর বৈশিষ্ট্য হলো তাদের প্রতিমার শৈল্পিক সাজসজ্জা।

এই বনেদি বাড়ির পুজোগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য—‘ঘরের মানুষ’। এখানে কেবল অতিথি বা দর্শক নয়, পরিবারের ভেতরের সকলে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন প্রতিটি আয়োজনে। অন্নপ্রাশন থেকে আরতি, প্রতিটি মুহূর্ত একরকম পারিবারিক মিলনমেলা। বড়দের সঙ্গে ছোটরা, কাকিমা-জেঠিমাদের হাতে রান্না করা ভোগ, আর সকলের মিলিত অংশগ্রহণে তৈরি হয় এক অদ্বিতীয় পরিবেশ।

পাড়ার মানুষ, আত্মীয়স্বজন, অতিথি—সবাই মিলে যেন এক হয়ে যায় এই পুজোর চার দিনে। প্যান্ডেল-আলোর চাকচিক্য ছাড়াই বনেদি বাড়ির আঙিনায় দাঁড়ালে মনে হয় সময় যেন পেছনে ফিরে গেছে। ঐতিহ্যের সেই ঘ্রাণ, গানের সুর, ঢাকের আওয়াজ আর ধূপের গন্ধ মিলেমিশে তৈরি করে অন্য রকম এক আবহ।

এমন বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো আজও কলকাতার উৎসব-মানচিত্রে এক বিশেষ আকর্ষণ। শুধু ভক্তি নয়, এ যেন এক অন্তরের টান, এক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা—যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*