রোজদিন ডেস্ক :
উৎসবের মরসুমে খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি রুখতে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। এবার নদিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র মায়াপুরে অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও ব্লক প্রশাসন। শুক্রবার সকালে ইসকন মন্দির সংলগ্ন এলাকার একাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবারের দোকান এবং হোটেলে আচমকা তল্লাশি চালান আধিকারিকেরা। অভিযানে একাধিক রেস্তোরাঁর রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের পাশাপাশি ফ্রিজের মধ্যে পচা দই, নষ্ট হয়ে যাওয়া ময়দা এবং প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের সন্ধান মেলে।

তল্লাশিতে শুধু খাবারের গুণগত মান নিয়েই নয়, সামনে আসে লাইসেন্স সংক্রান্ত একাধিক গাফিলতিও। অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কাছে উপযুক্ত ট্রেড লাইসেন্স এবং FSSAI-এর ফুড সেফটি সার্টিফিকেট ছিল না বলে অভিযোগ। প্রশাসনের প্রশ্নের মুখে ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, দোকান নতুন হওয়ায় তাঁরা লাইসেন্স পাননি। আবার কেউ কেউ ছোট দোকান হওয়ার কারণে লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি বলে জানান।
নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে জগতপতি দাস নামে এক ব্যবসায়ীর রেস্তোরাঁ অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাবারের মান খারাপ এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকার ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।

ফুড সেফটি অফিসার দিশা হাজরা জানান, নবদ্বীপ ও সংলগ্ন এলাকায় আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলবে। উৎসবের মরসুমে মায়াপুরে দেশ-বিদেশের বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম হয়। তাঁদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, পুণ্যার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে? প্রশাসনের এই অভিযান সেই ছবিই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।

Be the first to comment