এই বছর ৩৫ দিন ছুটি পেয়েছেন তাঁরা। সামনের বছর হিসেব মতো প্রাপ্য ২৭ দিন। কিন্তু এত কমে খুশি নন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁর নির্দেশে, ছুটির সংখ্যা বেড়ে হল ৩১! আর মন্ত্রীর এই বদান্যতায় কপাল খুলল যাঁদের, তাঁরা আর কেউ নন। রাজ্য সরকারি কর্মচারী।
কী ভাবে বাড়ল ছুটির সংখ্যা?
নবান্ন সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাবিনেট বৈঠকের পরে মুখ্যসচিবের সঙ্গে রুটিন আলোচনায় বসেন মমতা। আলোচনার বিষয় ছিল, আগামী বছরের সরকারি ছুটির হিসেব। প্রতি বছরই অক্টোবর মাসে ঠিক করা হয় আগামী বছরের ছুটির তালিকা। এবারেও তেমনটাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৯ সালে সমস্ত উৎসব-পার্বণ মিলিয়ে মোট সরকারি ছুটির সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৭। অর্থাৎ এই বছরের চেয়ে আট দিন কম।
তখনই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ছুটির দিনের হিসেবে এই বছরের সঙ্গে আগামী বছরের এতটা পার্থক্যের কারণ কী। তাঁকে জানানো হয়, আগামী বছর বেশ কয়েকটি নির্ধারিত উৎসবের দিন শনি বা রবিবার পড়ার কারণে মোট ছুটির সংখ্যা কমে গিয়েছে। এ কথা শুনেই ছুটি বাড়ানোর উপায় বাতলে দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্ন সূত্রের খবর, রবিবার কয়েকটি নির্ধারিত ছুটি পড়ার কথা জানার পরেই মমতা নির্দেশ দেন, যে সমস্ত ছুটি রবিবার পড়েছে, সেই সমস্ত ছুটি সোমবার দেওয়া হোক। তাঁর কথায় “রবিবার তো হকের ছুটি, তার জন্য প্রাপ্য ছুটি মার যাবে কেন!”
তাঁর নির্দেশ মতোই আগামী বছরের ছুটি ছানবিন করে দেখা যায়, কালীপুজো-সহ চার দিনের প্রাপ্য ছুটি রবিবার পড়েছে। ওই চারটি ছুটি সোমবার দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ফলে আগামী বছরের মোট ছুটির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ থেকে ৩১।
গতকাল সন্ধ্যায় হরিদেবপুর এলাকার অজেয় সংহতি ক্লাবের পুজো উদ্বোধন করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা জানিয়ে বলেন, তিনি সরকারি কর্মচারীদের ছুটি দেওয়ার পক্ষে। তাঁর কথায় “আমি তো আগামী বছরের ছুটির ক্যালেন্ডার আজই তৈরি করলাম। কারণ আমি একটু আগে থেকেই কাজ করি। দেখলাম এ বছরে মোট ৩৫ দিন ছুটি পড়েছে। সরকারি ছুটি। আগামী বছর কয়েকটা রবিবার পড়ে গিয়েছে বলে ওটা কমে ২৭ হয়ে গেছে। কিন্তু আমি আপনাদের পক্ষে বলে, ২৭ থেকে আরও চার বাড়ালাম। অনেক টেনেটুনে ৩১ করলাম।”

Be the first to comment