পাকিস্তানকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মঞ্জুর করল আইএমএফ, বোর্ডের বৈঠকে ভোটদানে বিরত থাকল ভারত

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক, কলকাতা:- পাকিস্তানকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আট হাজার কোটি টাকার বেশি) ঋণ দিতে রাজি হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ড বা আইএমএফ। শুক্রবার রাতে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। অতীতেও বিপুল ঋণে জর্জরিত পাকিস্তান। তার মধ্যেই ফের ইসলামাবাদকে ঋণ মঞ্জুর করল আইএমএফ। ঋণ সংক্রান্ত বোর্ডের বৈঠকে ভোটদানে বিরত থাকল ভারত। তারা জানিয়েছে, এর আগে ঋণের টাকার সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘খারাপ ট্র্যাক রেকর্ড’ রয়েছে পাকিস্তানের।
শুক্রবার ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসেছিল আইএমএফের ঋণ সংক্রান্ত বোর্ড। আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটাভুটির ক্ষেত্রে বিরোধিতার কোনও সুযোগ নেই। হয় সমর্থন করতে হবে, নয়তো ভোটদানে বিরত থাকতে হবে। পাকিস্তানকে ঋণ মঞ্জুর না করার সপক্ষে ভারতের জোরালো যুক্তি থাকলেও ভোটাভুটিতে বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই ভোটদানে বিরত থাকে ভারত।
এর আগেই আইএমএফের থেকে বিপুল ঋণের বোঝা চাপিয়েছে শাহবাজ শরিফের দেশ। সেই ধারা অব্যাহত রেখে ফের আইএমএফের কাছে যায় ইসলামাবাদ। তবে ঋণ না দেওয়ার জন্য স্পষ্ট যুক্তি দেওয়া হয় ভারতের তরফে। অভিযোগ, করা হয় অতীতেও একাধিকবার ঋণ নিয়েছে পাকিস্তান। তবে সেই অর্থ তারা সঠিক কাজে ব্যবহার করেনি। সরাসরি সন্ত্রাসবাদে অর্থ যোগানের আশঙ্কা প্রকাশ করে ভারত জানায়, এই অর্থ পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদে অপব্যবহার করতে পারে ফলে এই ঋণ কোনওভাবেই দেওয়া উচিত নয়। আইএমের তরফে ঋণ মঞ্জুর করা নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, আইএমএফের ঋণ পাওয়ার যে শর্ত থাকে, তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে পাকিস্তান। ভারতের অভিযোগ, ঋণের টাকা অনেক ক্ষেত্রে সীমান্তে সন্ত্রাস ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। গত ২৮ বছর ধরে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পেয়েছে পাকিস্তান। আগের প্রকল্পগুলির ঋণের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পাকিস্তান আরও একটা প্রকল্পের অধীনে ঋণ চাইত না। সে কারণে তাদের ঋণের অর্থের সদ্ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
এদিকে ঋণ মঞ্জুর হওয়ার পর পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘আইএমএফের তরফে পাকিস্তানকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে। ভারত এই ঋণে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত ভারতের দাবি ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তান অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করেছে এবং দেশটি উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।’

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*