রোজদিন ডেস্ক : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনি আমেরিকা – ইজরায়েলের যৌথ আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর অফিসে তিনি নিহত হন বলে জানা যায়। তাঁর প্রয়াণে ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন করা হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম তাঁর সমাজমাধ্যমে আয়াতোল্লা খোমেইনির নিহত হওয়ার কথা লেখেন। প্রথমে তা অস্বীকার করলেও পরে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহর-এর সত্যতা স্বীকার করে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সমাজমাধ্যমে জানান, আমেরিকা-ইজরায়েলের এর যৌথ আক্রমণে ছিয়াশি বছর বয়স্ক আয়াতোল্লা খোমেইনি নিহত হয়েছেন। তিনি তাদের গোয়েন্দা পদ্ধতি, অত্যাধুনিক নজরদারি এড়াতে পারেননি, তাঁর সঙ্গে আরও অনেক নেতা নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রথমে তা অস্বীকার করলেও ইরান পরে এর সত্যতা স্বীকার করে ইরানের জনসাধারণের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, দেশকে হাতে নেওয়ার এটিই সব থেকে ভাল সুযোগ। তাঁর আশা, ইরানের আইআরজিসি (ইসলামিক রেভ্যুলেশনারী গার্ড কর্পস) ও পুলিশ ইরানের দেশপ্রেমীদের সঙ্গে মিশে যাবে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেইনি নিহত হয়েছেন বলে আগেই দাবি করেছিলেন। সূত্রের খবর, নিহত খোমেইনির মরদেহ চিহ্নিত করা হয়েছে।
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানে ক্ষমতায় ছিলেন এই ধর্মগুরু। ১৯৭৯ সালে ইরানের শাহ জমানা শেষ হওয়ার পর আয়াতোল্লা রুহোল্লাহ খোমেইনি ক্ষমতায় আসেন। এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে আয়াতোল্লা খোমেইনি টানা ওই দেশ শাসন করেছেন। এতদিনে তার পরিসমাপ্তি হল।
ইরান সরকারের সব শাখা, সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ সহ সর্বত্র একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তাঁর।
সূত্রের খবর, তাঁর প্রয়াণের পর ইরানে সরকার পরিচালনার জন্য সম্ভবত একটি পর্ষদ তৈরি করা হবে।
আয়াতোল্লা খোমেইনি নিহত হলেও আমেরিকা – ইজরায়েলে-এর ইরান আক্রমণ এখনই বন্ধ হচ্ছে না বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
তাঁর প্রয়াণে ওখানকার বহু মানুষ শোকাহত। ৪০ দিনব্যাপী শোক পালিত হবে বলে জানা যায়।

Be the first to comment