বিসর্জনের চার দিন পরেও নীরব প্রশাসন, জলঙ্গি নদী জুড়ে প্রতিমার ধ্বংসাবশেষ, দায়িত্ব এড়াল কে?

Spread the love

কৃষ্ণনগর, নদীয়া : সরস্বতী প্রতিমা বিসর্জন শেষ হয়েছে চার দিনেরও বেশি সময় আগে। অথচ কৃষ্ণনগরের জলঙ্গি নদীর পাড়ে আজও ছড়িয়ে রয়েছে প্রতিমার কাঠামো, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ও প্লাস্টিকের অংশ। কোথাও নদীর ধারে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে, আবার কোথাও বড় স্তুপে জমে রয়েছে বিসর্জনের বর্জ্য। বিসর্জন পরবর্তী নদী পরিষ্কারের যে নিয়মিত চিত্র প্রতিবছর দেখা যায়, এবছর তার লেশমাত্র নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিসর্জনের মূল দিন ও পরবর্তী সময়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে নদী পরিষ্কারের জন্য কোনও সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি। এমনকি নদী সংলগ্ন ঘাট এলাকাগুলিতেও পৌরসভার উপস্থিতি কার্যত চোখে পড়েনি। ফলে বিসর্জনের পরপরই নদী পরিষ্কার করার যে দায়িত্ব প্রশাসনের, তা কার্যত উপেক্ষিতই থেকে গেছে।
এই অব্যবস্থাপনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে এই কারণে যে, চলতি বছরে কৃষ্ণনগর পৌরসভার প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে মহকুমা শাসক স্বরদুতি চৌধুরীর হাতে। শহরবাসীর একাংশের প্রশ্ন—যদি পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরও এই ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবার বিষয়টি নজরে না আসে, তাহলে প্রশাসনিক তদারকি কোথায়?


নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, প্রতিমার কাঠামো দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নদীর জল দূষিত হচ্ছে। পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বাড়ছে মশা ও মাছির উপদ্রব। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের বর্জ্য নদীতে পড়ে থাকলে জলজ প্রাণীর উপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। অথচ প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ব্যাখ্যা বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি।
প্রতিবছর বিসর্জনের আগে প্রশাসনের তরফে পরিবেশবান্ধব বিসর্জন ও দ্রুত পরিষ্কারের প্রতিশ্রুতি শোনা যায়। কিন্তু এবছর বাস্তব চিত্র তার সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রশ্ন উঠছে—এই কাজের জন্য বরাদ্দ অর্থ আদৌ কোথায় গেল? নদী পরিষ্কারের দায়িত্ব কার উপর ছিল এবং কেন সেই দায়িত্ব পালন করা হয়নি?


স্থানীয় নাগরিকদের অভিযোগ, উৎসব শেষ হলেই প্রশাসনিক তৎপরতা যেন থেমে যায়। বিসর্জনের পর নদী পরিষ্কার করা কোনও ঐচ্ছিক বিষয় নয়, এটি একটি বাধ্যতামূলক নাগরিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন না হলে তার জবাবদিহি হওয়া জরুরি।
জলঙ্গি নদী শুধু একটি জলাশয় নয়, কৃষ্ণনগর শহরের প্রাণরেখা। সেই নদী আজ অবহেলায় পরিণত হওয়ায় ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসন কি এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেবে, নাকি আবারও নীরবতাই ঢাল হয়ে থাকবে—সেই দিকেই তাকিয়ে শহরবাসী।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*