কর্পোরেট দুনিয়া থেকে মাটির রাজনীতি—কালীগঞ্জে প্রচারে ঝড় তুললেন আলিফা, পাল্টা সক্রিয় সিপিএম

Spread the love

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া :
কর্পোরেট জগতের অভ্যস্ত জীবন ছেড়ে এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে। কাচে ঘেরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস থেকে বেরিয়ে চৈত্রের তপ্ত রোদে হুড খোলা গাড়িতে কিংবা হেঁটে প্রচার—এই পরিবর্তনই এখন বাস্তব কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের জীবনে। পঁচিশের উপনির্বাচন তাঁর কাছে ট্রায়াল হলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনই বড় পরীক্ষা—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

প্রাক্তন বিধায়ক লাল সাহেবের কন্যা আলিফার সামনে শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘কর্পোরেট’ তকমা ঝেড়ে ফেলে নিজেকে ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। গত কয়েকদিনের কর্মী বৈঠক শেষ করে বুধবার থেকে তিনি জোরকদমে প্রচারে নামেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কাঁচা-পাকা রাস্তা ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে দেখা যায় তাঁকে।

প্রচারের সময় রাস্তার দু’ধারে মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কোথাও ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা, কোথাও গাড়ি থেকেই শিশুদের কোলে তুলে আদর—সব মিলিয়ে জনসংযোগে একেবারে ভিন্ন ছবি তুলে ধরেন তৃণমূল প্রার্থী। মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বোঝান, এই নির্বাচন তৃণমূলের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আলিফার কথায়, “মানুষের মধ্যে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। ওঁরা আমাকে ঘরের মেয়ের মতোই আপন করে নিচ্ছেন—এটাই সবচেয়ে ভালো লাগছে। উপনির্বাচনের থেকে জয়ের ব্যবধান বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।”

কালীগঞ্জ বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র দেবগ্রাম স্টেশন চত্বর থেকেই এদিন প্রচারের সূচনা হয়। সকাল দশটা নাগাদ স্টেশন সংলগ্ন জোমপুকুর রেলগেট এলাকায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমে ওঠে। দলীয় পতাকায় এলাকা মুড়ে গেলেও, বিরোধী শিবিরের উপস্থিতিও চোখে পড়ে। প্রার্থী পৌঁছতেই মালা পরিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন, ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, মহিলা সভানেত্রী মল্লিকা চট্টোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতারা। প্রথম দিনেই একসঙ্গে প্রচারে নেমে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের বার্তা দিতে চেয়েছে তৃণমূল—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

জোমপুকুর থেকে ডিঙ্গেল, গহরোপোতা, স্টুডেন্ট কর্নার হয়ে ডাঙ্গাপাড়া, তালতলা পাড়া, চাঁদাপুর এবং ভাগা—প্রায় ৮ থেকে ১০টি বুথে টানা প্রচার চালান আলিফা। বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে ঘিরে মহিলাদের ভিড় উপচে পড়ে। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সেলফি তোলার আগ্রহও ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও আবদারই ফেরাননি তিনি।

ডিঙ্গেলের এক বাসিন্দার কথায়, “আমাদের প্রার্থী খুব ভালো। সবার সঙ্গে সহজে মিশছেন।” অন্যদিকে গহরোপোতার বাসিন্দা সাবিনা বিবি বলেন, “এলাকায় আগের থেকে অনেক কাজ হয়েছে। তবে রাস্তাটা আবার ভালো করে বানালে ভালো হয়। বাড়ির জন্য আবেদন করেছিলাম, এখনও পাইনি। তবুও আমরা তৃণমূলের সঙ্গেই আছি।”

এদিকে পাল্টা প্রচারে পিছিয়ে নেই সিপিএমও। দেবগ্রামের ভাগা এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন সিপিএম প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন বোমার আঘাতে তামান্না খাতুনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এনে শাসকদলকে নিশানা করেন তাঁরা। সিপিএম নেতা দেবাশিস আচার্যের দাবি, “তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষ বীতশ্রদ্ধ। এসআইআর নিয়ে ওরা শুধু প্রচার চালাচ্ছে, মানুষের কোনও উপকার হচ্ছে না। আমাদের প্রার্থী প্রত্যেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন।”

সব মিলিয়ে, কালীগঞ্জে শুরু থেকেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। একদিকে নতুন মুখ আলিফার জনসংযোগ, অন্যদিকে বিরোধীদের আক্রমণ—ভোটের আগে উত্তাপ বাড়ছে রাজনীতির ময়দানে।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*