দেশে প্রথম চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে কেরালা, বিরোধীদের দাবি সব ভাঁওতা!

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : সারা দেশে এই প্রথম চরম দারিদ্র্য সীমার ওপরে তাঁদের রাজ্য কেরালা। আজ মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বিধান সভায় এই ঘোষণা করেন। আজ কেরালার ৬৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস ও। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইউডিএফ মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি মানেনি, একে ভাঁওতা তকমা দিয়ে তাঁরা অধিবেশন বয়কট করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সামনে তাঁদের রাজ্য আর একটি মডেল উপস্থাপন করছে। এই প্রথম কেরালা চরম দারিদ্র্য সীমার ওপরে উঠেছে। রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমূলক প্রকল্প নেওয়া হয়। তাঁর আশা, অন্য রাজ্যগুলিও চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে যেতে ব্যবস্থা নেবে। এই ক্ষেত্রে কেরালা নিদর্শন বলে তাঁর দাবি।
বিধান্সভায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই ঘোষণা করার ঠিক আগেই বিরোধী নেতা ভি ডি সাথিসন বলেন, কেরালা চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে বলে সরকারের দাবি ভাঁওতা ছাড়া কিছু না।তাঁরা এর শরিক হতে চান না। আজকের এই অধিবেশন তাঁরা বয়কট করছেন।কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফের আরও অভিযোগ, শবরিমালা মন্দিরের দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকার কোন ও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাঁরা বিধান সভার ভিতরে ও বাইরে বহুদিন ধরেই দেবাশ্বম মন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেবাশ্বম পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার দাবি করছেন। ফলত তাঁরা কোনভাবেই এতে অংশ নেবেন না। এই ছাড়া রাজ্য যে দারিদ্র্য সীমার ওপরে গেছে, এই নিয়ে আগেই সরকার প্রকাশ্যে সব ই জানিয়েছে। আজ তা বিধানসভায় ঘোষণা অর্থহীন বলে সাথিসন তোপ দাগেন।
মুঝ্যমন্ত্রী এতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,রাজ্যের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিরোধীরা কেন এই সব বলছেন তিনি জানেন না। সরকারি ভাবে বিধানসভায় তা জানাতেই তাঁরা চান। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাঁরা রাজ্যকে চরম দারিদ্র্যসীমার ওপরে নিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুমাসের মধ্যে তাঁদের চিহ্নিতকরণের কাজ হয়েছিল। মূলত এই মানুষদের স্বাস্থ্য, বাসস্থান, জীবিকার উপায় ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এতেই তাঁদের কাজ শেষ হচ্ছে না, সবে তা শুরু বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে ও কেরালার জনকল্যাণমূলক বহু কাজ ও প্রকল্প প্রশংসিত হয়েছে।
রাজ্যের চরম দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা ৬৪০০৬ জন মানুষের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে বলে সরকারের দাবি।আদিবাসী থেকে উপকূলবর্তী অঞ্চলের কেউ যাতে বাদ না যান, তাঁরা নিশ্চিত করেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি।
আগামী বছর কেরালা বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে এটি তাঁদের অন্যতম হাতিয়ার হবে বলে ওয়াকেবহাল মহল মনে করেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*