প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বিপাকে মল্লিকার্জুন খড়গে!

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সন্ত্রাসবাদী (টেররিস্ট) বলার অভিযোগ উঠলো জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের বিরুদ্ধে। চেন্নাই-এ সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। বিজেপি এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানায়। কমিশন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মল্লিকার্জুন খড়গের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক সংস্থা, কিন্তু এর ব্যবহার সংবিধানের ওপর আক্রমণ। এর জন্য বর্তমান সিইসি দায়ী।
আজ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও এই প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস ও টিএমসি-কে একযোগে আক্রমণ শানান। সপ্তগ্রামের প্রচার সভায় বলেন, মমতা ও মনমোহনের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের বিরিয়ানি খাওয়াতো। তাঁদের সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর তার ব্যাখ্যা দেন। বলেন, মোদিজির সরকার এসেছে। উরিতে হামলা হোল, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে।
পুলওয়ামায় হামলার উত্তরে এয়ার স্ট্রাইক হয়েছে। আর পহেলগাঁও এ হামলার জবাবে অপারেশন সিঁদুর হয়েছে।মোদিজি দেশে সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদ শেষ করেছেন।
মল্লিকার্জুন খড়গের উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ হেনে অমিত শাহ বলেন, যিনি (মোদিজি) সন্ত্রাসবাদকে শেষ করতে নিজের জীবন দিচ্ছেন, তাঁকেই সন্ত্রাসবাদী বলছেন!! লজ্জা লজ্জা! জনতা এর পুরো হিসাব নিকাশ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অন্যদিকে মল্লিকার্জুন খড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলিকে ভয় দেখান (টেররাইসিং পিপল অ্যান্ড পলিটিকাল পার্টিস) এটাই তিনি বলতে চেয়েছেন।
বিজেপি অবশ্য এই ইস্যুতে কংগ্রেসকে ছাড়তে নারাজ, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে খড়গের এই মন্তব্য নিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, পরিষদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রমুখ নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানান। ইসি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মল্লিকার্জুন খড়গের ব্যাখ্যা তলব করেছে।
অন্যদিকে মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ নিয়ে বিরোধী দলগুলি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছেন। সেই বিষয়ে ইসি কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা জানা যায়নি।
সুত্রের খবর, চেন্নাই-এ সাংবাদিক বৈঠকে মল্লিকার্জুন খড়গে বলেন, উনি (মোদিজি) একজন সন্ত্রাসবাদী। ওঁর দল (বিজেপি) কোন সাম্য ও ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী না। এঁদের সঙ্গে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা গণতন্ত্রকে ও আন্নাদুরাই, কামরাজ, পেরিয়ার, কালাইনার ও বি আর আম্বেদকরের দর্শনকে দুর্বল করছেন।
এটি বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সন্ত্রাসবাদী বলেননি। কিন্তু উনি সব সময় ভয় দেখান।
তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় ওঠে। বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে দাবি জানায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*