রোজদিন ডেস্ক :
কঠোর নিরাপত্তায় আগামীকাল রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ছাড়া মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোট গ্রহণ হবে। এবার এসআইআরের জন্য রাজ্যের সর্বত্র নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে। কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় অব্যাহত। শাসক টিএমসি, বামফ্রন্ট ও এর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি র দাবি, এসআইআরে ভোটার তালিকায় অনেক বেনোজল ছিল, তা বেরিয়ে গেছে। মৃত, ভূয়ো ভোটার, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী প্রমুখের নাম মূলত বাদ গেছে বলে তাদের দাবি।
যদিও বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাওয়ায় রাজ্যের সর্বত্র ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বিজেপি এবার রাজ্যে জয়ের লক্ষ্যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী-সহ তাদের জাতীয় স্তরের নেতা, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়মিত যাতায়াত, জনসভা হচ্ছে।
অন্যদিকে শাসক দলের মূল প্রচারের মুখ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি অক্লান্ত ভাবে জনসভা, রোড শো করছেন।
পিছিয়ে নেই কংগ্রেস, বামফ্রন্টও। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গে সহ একাধিক জাতীয় স্তরের নেতারা প্রচারে আসছেন।
রাজ্যে গত কয়েক বছরে পদ্ম শিবিরের রমরমা বিপুল ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই ১৫২ টি আসনের ফলাফল কিছুটা হলেও বদলেছে। টিএমসি-র আসন গতবারের পাওয়া ৯২ টি থেকে কমে ৭৭ টি হয়েছে। বিজেপির ৫৯টি থেকে কমে হয়েছে ৫৩ টি। গত বিধানসভা ও লোকসভায় শুন্য থাকা কংগ্রেস ১১টি ও বামফ্রন্ট ১টি তে এগিয়ে আছে।
এবারের নির্বাচনে মেরু করণ ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন। মূলত বিজেপি হিন্দু ভোট একত্রিত করার প্রাণপণ প্রয়াস নিয়েছে।
অন্যদিকে শাসক দলের বড় শক্তি সংখ্যালঘু ভোট। রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বহু জেলায় এবার ব্যাপক হারে ভোটারদের নাম বাদ গেছে। যা নিয়ে কিছুটা হলেও চাপে আছে শাসক দল।
নির্বাচনে এবার নজর কাড়ছে কংগ্রেস ও। কুড়ি বছর পর এককভাবে সব আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারা। দলের কমিটেড ভোট তাঁরা পাবেন নিশ্চিত।
বামফ্রন্ট এবারও আইএসএফের সঙ্গে জোট বেঁধেছে। সিপিএমের তরুণ প্রার্থীদের নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনাও দেখা যাচ্ছে। ভোটের বাক্সে এর প্রতিফলন কতটা তা বোঝা যাবে ৪ মে।

Be the first to comment