নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া :
রামনবমী উপলক্ষে কৃষ্ণনগরে রাজবাড়ীর মাঠ থেকে এক বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বিপুল উপস্থিতির মধ্যেই মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ প্রশাসন; সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও রাজ্যজুড়ে রামনবমী উপলক্ষে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নদিয়ার কৃষ্ণনগরেও রাজবাড়ীর মাঠ থেকে রামভক্ত হিন্দু সনাতনীদের উদ্যোগে একটি সুবিশাল শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে মিছিলটি।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ধর্মীয় আবহ, ঢাক-ঢোল, পতাকা ও বিভিন্ন সাজসজ্জায় মিছিলটি ছিল বর্ণাঢ্য। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যখন মিছিলে কিছু অংশগ্রহণকারীকে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এদিকে, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন থাকায় গোটা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও মিছিলের রুট জুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়। এছাড়াও, যাতে কোনওরকম অশান্তি বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সাদা পোশাকের পুলিশ ও বিশেষ টহলদারি ব্যবস্থাও রাখা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়েছে এবং কোথাও বড় ধরনের গোলমাল ঘটেনি। যদিও অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক মহল থেকে।
ধর্মীয় উৎসবের আবহে কৃষ্ণনগরের এই শোভাযাত্রা যেমন ভক্তদের উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল, তেমনই অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও তুলেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন ঘটনায় প্রশাসনের সতর্ক ভূমিকা নজর কেড়েছে। এখন দেখার, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

Be the first to comment