রোজদিন ডেস্ক: রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সম্পূর্ণ হল একটি বৃত্ত। যার সাক্ষী রইলেন কয়েক লক্ষ মানুষ। ইন্ডিয়া জোটের মহা সমাবেশের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে উপস্থিত সনিয়া গান্ধিকে মাই লিডার সনিয়া গান্ধি বলে সম্বোধন করে গোটা জমায়েতকে চমকে দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদা যে কংগ্রেস ছেড়ে একদিন তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করে চিরশত্রু বিজেপির হাত ধরেছিলেন তিনি, আজ সেই বিজেপিকে হঠাতে সনিয়াকেই নেত্রী মানলেন প্রয়াত রাজীব গান্ধির স্নেহধন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই রাজনীতি। নিজের কথায়, বিজেপি সরকারকে হটানোর ডাক দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। বিজেপির দ্বারা দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করা, সংবিধানকে নষ্ট করা, ভোট লুঠ করা, চাকরি লুঠ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নেত্রীর গর্জন, এসআইআর করে ওরা বাংলা লুঠ করেছে, আমরা দিল্লি থেকে ওদের তাড়াব। বাংলা পরিস্থিতির শিকার। আমরা ছাড়ব না। প্রাণ যাবে কিন্তু লড়াইয়ের ময়দান ছাড়ব না। রাজনৈতিক লড়াই করে ওদের তাড়াব। এদের ভয় পেলে চলবে না। আওয়াজ তুললেন বিজেপি হঠাও, দেশ বাঁচাও। এদিনের মেগা সমাবেশে নেত্রী নিজের বক্তব্যের শুরুতে সনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, ফারুক আবদুল্লা-সহ বিরোধী নেতাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি সিজেপি নেতৃত্ব, জেন-জি, ছাত্র-ছাত্রী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন এবং ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।

জ্ঞানেশ কুমার এবং বিজেপিকে আক্রমণ করে নেত্রী বলেন, ভ্যানিশ কুমার বাংলায় ভোট লুঠ করেছে। আমি হারিনি, ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। জীবন দিয়ে দেব কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না। ভ্যানিশ কুমারকে নিয়ে কবিতা বলতেই ফেটে পড়ে জনতা। নেত্রীর সঙ্গে গলা মেলালেন তাঁরাও। রাজনীতির ময়দান থেকে নিয়ে ছাড়বেন বলে হুঙ্কার দিলেন মমতা। উঠল ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে শেষ বিধানসভা নির্বাচনে হারের প্রসঙ্গ। মনে করিয়ে দিলেন, ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী তিনি নন। জীবন দিয়ে দেবেন কিন্তু পথ ছাড়বেন না।

রাজ্যে বিধান সভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেন নি। আজ দিল্লিতে সি ই সি জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মহা সমাবেশে মমতা ব্যানার্জিব্ল ফের দাবি করলেন, তাঁরা হারেন নি, তাঁদের হারানো হয়েছে। বিরোধী শাসিত রাজ্য গুলি দখল করতে বিজেপি এস আই আর করেছে।
এর জন্য ই রাজ্যে তাঁরা পরাজিত হয়েছেন দাবি করে সুর চড়িয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা এদের ছেড়ে দেবেন না। বিজেপি র বিরুদ্ধে লড়াই এ, গণতন্ত্র রক্ষায় সব বিরোধী দল ও সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ কে তিনি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী কে তিনি তাঁর নেত্রী বলে অভিহিত করেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে আগের সুরেই তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ভ্যানিশ কুমারজি, তিনি কবে ভ্যানিশ হবেন, তাঁরা অপেক্ষা করছেন।
তরুণ প্রজন্ম,সি জেপি র আন্দোলনের জন্য তাঁদের কুর্নিশ জানান।

Be the first to comment