রোজদিন ডেস্ক : আজ শনিবার, ১৪ মার্চ, কৃষক দিবস। রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। নন্দীগ্রামে কৃষিজমি আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর এই দিনটিকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ‘কৃষক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃষক ভাইবোন ও তাঁদের পরিবারকে কৃষক দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, কৃষকরা আমাদের গর্ব ও অন্নদাতা। ‘কৃষকবন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি, শস্য বিমার যাবতীয় খরচ বহন করা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আর্থিক সহায়তা, কৃষকের অকাল মৃত্যুতে কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে কৃষক পেনশন প্রদান, ১৮৬টি ‘কিষাণ মান্ডি’ চালু করা থেকে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্র প্রদান – সবকিছুই আমরা করেছি। তিনি লেখেন, “কৃষক দিবসে সকল আমার সকল কৃষক ভাইবোন ও তাঁদের পরিবারকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।

নন্দীগ্রামে কৃষিজমি আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিবছর এই দিনটিকে আমরা ‘কৃষক দিবস’ হিসেবে পালন করি।
আমাদের কৃষকরা আমাদের গর্ব। তাঁরাই আমাদের অন্নদাতা। তাই তাঁদের প্রতিটি প্রয়োজনে আমরা তাঁদের পাশে থাকি।
‘কৃষকবন্ধু (নতুন)’ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে ন্যায্য মূল্যে বিক্রি, শস্য বিমার যাবতীয় খরচ বহন করা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আর্থিক সহায়তা, কৃষকের অকাল মৃত্যুতে কৃষক পরিবারের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে কৃষক পেনশন প্রদান, ১৮৬টি ‘কিষাণ মান্ডি’ চালু করা থেকে শুরু করে বিনামূল্যে কৃষি যন্ত্র প্রদান – সবকিছুই আমরা করেছি।
কৃষকবন্ধু (নতুন) প্রকল্পে কৃষক, বর্গাদার, ভাগচাষীরা এখন বছরে ১০০০০ টাকা করে পান। যার সামান্য জমিও আছে তিনিও ন্যূনতম ৪০০০ টাকা পান। এই টাকা দুই কিস্তিতে, খরিফ আর রবি মরশুমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০৫১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। উপকৃত হয়েছেন মোট ১.১৪ কোটিরও বেশি কৃষক, বর্গাদার ও ভাগচাষি।
এবার কৃষক, বর্গাদার এবং ভাগচাষিদের পাশাপাশি খেতমজুরদেরও বছরে দুই কিস্তিতে ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। মোট প্রায় ২৮ লক্ষ আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে গত ৮ই মার্চ থেকেই টাকা পাঠানো শুরু হয়ে গেছে।
কৃষকবন্ধু (মৃত্যুজনিত সহায়তা) পেয়েছেন ১.৭০ লক্ষের বেশি কৃষক পরিবার। এই খাতে ৩৪১৯ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলা শস্য বিমা যোজনায় প্রিমিয়াম-এর পুরো খরচ দেয় রাজ্য সরকার। এখনো পর্যন্ত ১.১৫ কোটি কৃষক ৪০০৫ কোটি টাকার বেশি বাংলা শস্য বিমার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে এ পর্যন্ত ৬.০১ লক্ষেরও বেশি কৃষিযন্ত্র কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। খরচ হয়েছে ১৩২১ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া, সরকারি সাহায্যে ২৫২৫টি কৃষিযন্ত্রাদি ভাড়া কেন্দ্র করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বাড়ছে যার সুফল পাচ্ছেন কৃষকরা।
ফসলের অভাবী বিক্রি বন্ধ করার জন্য রাজ্য সরকার ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয় করছে। এই বছর ৭০ লক্ষ মেট্রিক টন ধান কেনা হচ্ছে। এছাড়া, প্রয়োজন মত অন্যান্য ফসলের ন্যায্য মূল্যে ক্রয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
আগামীদিনেও আমরা এভাবেই আমাদের কৃষকদের পাশে থাকবো।”

Be the first to comment