রোজদিন ডেস্ক : কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সামনে রেখে প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে গোটা বাংলা। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূলনেত্রীর সাফ কথা, মানুষের অধিকার কেড়ে নিলে, আপনাদের অধিকারও কেড়ে নেবে বাংলা। শুক্রবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঙ্কার, দলের চেয়ে বড় কিছু নেই। দলের সম্পত্তি নষ্ট হলে প্রতিবাদ হবেই। আমাদের নেক্সট ডেস্টিনেশন ইলেকশন কমিশন। জোড়াফুলই যদি রক্ষা না পায়, তাহলে মানুষের জন্য লড়াই করব কীভাবে? কাল যা করেছি, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি। তুমি আমায় খুন করতে এলে আমার আত্মরক্ষা করার অধিকার আছে। বৃহস্পতিবার আচমকা তৃণমূলের পরামর্শদাতা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। খবর পেয়ে নিজে প্রতীক জৈনের বাড়ি ও আইপ্যাকের অফিসে হাজির হয়ে দলের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ইডির হাত থেকে ছিনিয়ে নেন নেত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে মহামিছিল শেষে হাজরা মোড়ে সভা থেকে ইডিকে নিশানা করে নেত্রীর বলেন, চোরের সব ডেটা চুরি করেছে। আমায় আঘাত করলে আমার পুনর্জন্ম হয়। গতকাল আবার নতুন করে জন্মালাম। বিজেপির মন্ত্রণায় ইডি, সিবিআই প্রতিহিংসায় অতি সক্রিয় হয়েছে। এর বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন যাদবপুর-৮বি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার মিছিলে হাঁটেন নেত্রী। সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বস্তরের নেতা, কর্মী, সমর্থকরা। হাজরা মোড়ে মিছিল শেষে জনসভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে নেত্রী বলেন, এমন পার্টি কখনও দেখিনি। লজ্জা করে না? দু’কান কাটা পার্টি, জুমলা পার্টি, অত্যাচারী পার্টি, ব্যভিচারী পার্টি। অনেক রাজ্য জোর করে দখল করেছে। এখন বাংলা দখল করতে চাইছে। বাংলা শুনলেই সহ্য করতে পারছে না। বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি? তার মানে আগের নির্বাচনে এই বাংলাদেশিদের ভোটে জিতেছে? তাহলে নিজেরা পদত্যাগ করছে না কেন?

বিজেপি-কমিশন ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির যৌথ ষড়যন্ত্রকে একযোগে তুলোধোনা করে তাঁর হুঁশিয়ারি, আমি অনেককিছু জানি। আমি মুখ খুললে সারা পৃথিবীতে হইচই হবে। দেশকে ভালবাসি বলে মুখ খুলি না। চেয়ারে আছি বলে পেনড্রাইভ বের করি না। বেশি করলে ভাণ্ডা ফাঁস করে দেব! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে নেত্রীর বক্তব্য, ভ্যানিশ কুমার দেড় কোটি ভোট কাটতে চাইছে। আর নিজের মেয়ে-জামাইকে ডিএম বানিয়েছেন। এত নাম কেটে তুমি কোথায় থাকবে বাবা? বিজেপি চিরকাল সরকারে থাকবে না। যেখানেই থাকো, তোমায় খুঁজে বের করব। নাগরিকদের অধিকার কাড়লে, আপনাদের অধিকারও কাড়ব। দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ, বিজেপির বিদায় আসন্ন। পাড়ায়-পাড়ায় বিজেপির মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দিন। আর যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের নামের লিস্ট এলাকায় টাঙান। শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। যাঁরা তৃণমূলকে নিয়ে বাজে কথা বলেন, কুৎসা, অপপ্রচার করে বেড়ান, তাঁরা জানেন না, বিনা প্রশ্নে ফাঁসির মঞ্চেও চলে যেতে পারে আমাদের কর্মীরা, এটাই তৃণমূল কংগ্রেস।

Be the first to comment