রোজদিন ডেস্ক : : চালসার পর বুধবার ময়নাগুড়িতে জনসভা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে একহাত নিলেন দলনেত্রী। একইসঙ্গে চা শ্রমিক এবং আলুচাষিদের পাশে থাকারও আশ্বাস দিলেন। ক্ষোভ উগরে দিলেন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়েও। ময়নাগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে ফের এসআইআর নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, বিজেপি শুধু বিজ্ঞাপনে থাকে। ওরা মিথ্যা বলে আর মানুষকে লাইনে দাঁড় করায়। সোশাল মিডিয়ায় প্রচার করে, বিজ্ঞাপন করে। আমরা পরিষেবা দিচ্ছি। আধার কার্ড দেখালে বলছে নো পাপা। ভোটার অধিকার কাড়ায় ইয়েস পাপা। দুই ভাই (বিজেপি-কমিশন) যত পারে চক্রান্ত করে। আমার মা-বোনেরা তৈরি আছে। একজনের নাম বাদ গেলেও দেখে নেব। ভোটচুরি রুখে দেবেন মা-বোনেরা। ছেলেদের পিছনে রাখবেন। আপনারা সামনে থাকবেন। তাঁর দাবি, অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি। বাংলাটাই তুলে দিতে চায়। বিহারের সঙ্গে জুড়ে দেবে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে আমি আটকেছি। কয়েক দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেরিয়ে যায়।

কমিশনের চিঠিতে বিজেপি-স্ট্যাম্প নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কখনও শুনেছেন, নির্বাচন কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির চিহ্ন দিচ্ছে। জীবনে কখন দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির দলীয় পতাকা নিয়ে যাচ্ছে! লজ্জা করে না। কোথায় এই লজ্জা ঢাকবেন বিজেপি নেতৃত্ব? পেট্রলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, পেট্রোলের দাম বেড়েছে। সব জিনিসের দাম বেড়েছে। এটা আমার হাতে নেই। এখন তো আমার হাত থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। আমার হাতে একটাই আছে, সেটা মানুষ। বিজেপি পার্টি ভ্যানিশ পার্টি। আলুচাষিদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তৃণমূলনেত্রী বলেন, চিন্তার কারণ নেই। শস্যবিমা আছে। সকলে ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগে থেকেই তা করা আছে। শস্যবিমার টাকা কৃষকদের দিতে হয় না। এদিন একইসঙ্গে চা শ্রমিকদের তিনি জানান,ওরা মিথ্যা কথা বলে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না, করে দেখাই। চা-বাগান খোলা রাখতে, চা সুন্দরী চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দিন। পাশাপাশি মেয়েদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চিরদিন চলবে বলেও আশ্বাস দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ময়নাগুড়ির উন্নয়ন প্রসঙ্গে দলনেত্রী বলেন, ময়নাগুড়ি আমার পছন্দের জায়গা। জল্পেশ শিবমন্দিরে ৫ কোটির স্কাইওয়াক করে দিয়েছি। নতুন হাসপাতাল হয়েছে। পলিটেকনিক হয়েছে। ময়নাগুড়ি ব্লকে ১৬৩ কোটি খরচে জলপ্রকল্প হয়েছে। ঘরে ঘরে জল পৌঁছে দেব। আমাদের ইস্তেহারে আছে। চ্যাংরাবান্দা থেকে জোড়পুখরি ১৪ কিমি রাস্তা মানোন্নয়ন হয়েছে।বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, বিজেপি আসলে ভ্যানিশ পার্টি। কখনও শুনেছেন নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বিজেপির চিহ্ন? সেন্ট্রাল ফোর্স বিজেপির ফ্ল্যাগ নিয়ে যাচ্ছে। লজ্জা করে না? বিজেপির গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত। দুটি গ্যাসের বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। এখন বলছে, দুটো গ্যাস বুক করতে চাইলে ৩৫ দিন লাগবে। গ্যাস বেলুনের গ্যাস বেরিয়ে গিয়েছে। মানুষ খেতে পাবে না, আবার পুরোনো দিনে ফিরে যেতে হবে। এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর করে রাজবংশীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মৃত্যুর দায় কে নেবে? ওরা হিংসুটে দল। নোটবন্দি মনে আছে? লাইনেও দাঁড় করিয়েছে। এ দেশের নাগরিককে বলছে প্রমাণ দিতে হবে তাঁরা নাগরিক কি না। মহিলাদের নাম কেটে দিয়েছে। কাল বলবে এনআরসি করবে, ডিটেনশন ক্যাম্প করবে। আমি বেঁচে থাকতে এ সব হবে না। আমার পরের জেনারেশনও সে সব অ্যালাও করবে না। এদিন ময়নাগুড়ির পাশাপাশি আরও দুটি সভা করেন তিনি। একটি মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, আরেকটি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে।

Be the first to comment