রোজদিন ডেস্ক :
মাত্র এক সপ্তাহ আগে তাঁর মা ছেলের উদ্দেশ্যে আকুল আর্তি জানিয়েছিলেন আত্মসমর্পণ করার জন্য। চেয়েছিলেন ছেলে অস্ত্র ত্যাগ করে মূল স্রোতে ফিরুক। আজ সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি সীতারাম রাজু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে সস্ত্রীক প্রাণ হারালেন মাওবাদীদের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাদভি হিদমা-সহ ছয় জন।
যাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা। ২০১০ এ সারা দেশে সাড়া জাগানো দান্তেওয়াড়া আক্রমণ সহ একাধিক মাওবাদী হামলায় জড়িত ছিলেন তিনি। মাত্র ৪৩ বছর বয়েসে হয়ে উঠেছিলেন সারা দেশের ত্রাস। ২০১০ এর দান্তেওয়াড়া, ২০১৩-য় ঝিরাম উপত্যকা, ২০২১ এ সুকমা – বিজাপুর সংঘর্ষ সহ একের পর এক ভয়াবহ হামলায় নাম জড়ানো এই শীর্ষ মাওবাদী নেতাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল নিরাপত্তা বাহিনী। আদতে ছত্তিশগড়ের বাদিন্দা মাদভি হিদমা ছত্তিসগড়, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশার ত্রাস হয়ে উঠে ছিলেন। পিপল লিবারেশন গেরিলা আরমির (পিএলজিএ) ব্যাটেলিয়ান নম্বর ওয়ান এর প্রধান মাদভি হিদমা সিপিআই ( মাওবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সব থেকে কনিষ্ঠ ও একমাত্র উপজাতি সদস্য ছিলেন। একের পর এক ভয়ংকর হত্যাকান্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। দান্তেওয়াড়ায় ৭৬ জন সিআরপিএফ, ঝিরাম উপত্যকায় কংগ্রেস নেতা সহ ২৭ জন, সুকমা – বিজাপুরে ২৭ জনকে হত্যা করেন হিদমা ও তাঁর সঙ্গীরা। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রেখেও নাগাল পাচ্ছিল না নিরাপত্তা বাহিনী।
আজ সকালে অন্ধ্রপ্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মাদভি হিদমা, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রাজে সহ ছয় জন প্রাণ হারান।
তাঁর নিহত হওয়ার খবরে অনেকটাই স্বস্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির নিরাপত্তা মহল।
কেদ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিদমা কে খুঁজে বার করার সময় সীমা দিয়েছিলেন।
আজ তিনি এই অভিযানের সাফল্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক, নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য আগামী বছর মার্চ মাসের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

Be the first to comment