কেন্দ্রের মনোনীত, তাই কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকেন রাজ্যপাল, কলকাতায় এসে বললেন প্রাক্তন বিচারপতি ফলি নরিম্যান (Nariman)

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : সাংবিধানিক এক্তিয়ার নিয়ে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল, বিরোধ ভারতীয় গণতন্ত্রের চেনা ছবি। সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এই বিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই আবহে কলকাতার এক অনুষ্ঠানে রাজ্য-রাজ্যপাল বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রোহিন্টন ফলি নরিম্যান (Nariman)। শুক্রবার তিনি বলেন, কেন্দ্রের মনোনীত, তাই কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী হয়েই থাকেন রাজ্যপালরা। তাঁর ব্যাখ্যা, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের শপথবাক্য একই। দু-জনেরই কর্তব্য সংবিধান ও দেশবাসীর স্বার্থরক্ষা করা। অথচ দু-জনের নিয়োগ বা অপসারণের পদ্ধতি আলাদা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সাংসদ ও বিধায়কদের ভোটে। কিন্তু রাজ্যপালকে নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের একমাত্র পথ সংসদে ইমপিচমেন্ট। রাজ্যপালকে ইচ্ছে করলেই রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া যায়। একারণেই রাজ্যপাল বরাবরই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন।

শুক্রবার কলকাতায় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিসডিক্যাল সায়েন্সে আয়োজিত সপ্তম এমকে নাম্বিয়ার স্মারক ভাষণে তিনি একথা বলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ- দেশের বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্যপাল ও সরকারের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হচ্ছে। বিধানসভায় পাশ‌ হওয়া একের পর এক বিল আটকে রাখা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে তামিলনাডুর রাজ্যপালকে।‌

দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এই বিরোধের স্থায়ী মীমাংসায় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে নিয়মিত সাংবিধানিক বৈঠকের প্রয়োজনের কথাও বলেন তিনি। তাঁর আশা সেখান থেকে কোনও সমাধানসূত্র মিলতে পারে। এনইউজেএসে আয়োজিত ‘রাজ্যপাল কি কেন্দ্রের প্রহরী না রাজ্যের প্রকৃত প্রধান’ শীর্ষক ভাষণে নরিম্যান একের পর এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ও সাংবিধানিক ধারার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিধানসভায় পাশ হওয়া বিল ফেরত পাঠানোর পর ফের পাশ হয়ে অনুমোদনের জন্য আসলে তা কতদিন আটকে রাখা যাবে, তার স্পষ্ট কোনও সময়সীমা নেই। তবে সেই বিল ফেরত পাঠালে রাজ্যপাল অনুমোদন দিতে বা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে বাধ্য।‌ এখান থেকেই সমস্যা শুরু। এদিনের অনুষ্ঠানে এনইউজেএসের উপাচার্য ডঃ নির্মলকান্তি চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*