Nepal Flash Flood, এখনও খোঁজ মেলেনি রাজ্যের পর্যটকদের, চরম উদ্বেগে পরিজনরা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : 
পড়শি নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিখোঁজ থাকা এই রাজ্যের পর্যটকদের এখন ও কোন খোঁজ না মেলায় চরম উদ্বেগ, উৎকঠায় প্রহর গুণছেন এখানে থাকা তাঁদের পরিবার, পরিজনরা। একটি নামী ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে মানস সরোবর বেড়াতে যাওয়া ৩২ জনের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায় নি। সূত্রের খবর, প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায় ও গত ২১ আগস্ট নেপাল বেড়াতে গেছেন। এখন অবধি স্বামী শুভ্রাংশু রায় তাঁর কোন খোঁজ না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন।
নাকতলা, কসবা,সোনারপুর, দুর্গাপুর, বারাসত, বসিরহাট সহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নেপালে যাওয়া ছত্রিশ জন পর্যটক এখনও নিখোঁজ বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়৷ সকলেরই মোবাইল ফোন বন্ধ, রাজ্য, কেন্দ্র, নেপালের হেল্পলাইনগুলিও কোন খোঁজ দিতে পারেননি।

নাকতলা, কসবা থেকে গেছেন রীনা ব্যানার্জি, সুস্মিতা ভট্টাচার্য। রীনার মা মেয়ের খোঁজ না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায়, একই পরিস্থিতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা সুস্মিতা ভট্টাচার্য র পরিবারের। তাঁর পুত্রবধূ বলেন, উনি খুব বেড়াতে ভালবাসেন। মাঝে মাঝে ই বেড়াতে যান৷ সোনারপুরের ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডুও একাই ঘুরতে ভালবাসেন। ব্যাঙ্ক কর্মী স্বামী, ছেলে মেয়ে, মা বাবা তাঁর জন্য চরম উদ্বিগ্ন। গতকাল সকালেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল।।
দুর্গাপুরের ভ্রমণ প্রেমী দম্পতি দেবাশিস ব্যানার্জি ও তাঁর স্ত্রী সঙ্ঘমিত্রা, অরিন্দম গাঙ্গুলি, স্ত্রী মৌসুমীরও কোন খোঁজ মেলেনি এখনও। কলকাতার এই ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে দুর্গাপুরের ছয়জন নেপালে যান। চেনা অচেনা সবাই তাঁদের জন্য উদ্বিগ্ন।

বসিরহাটের দম্পতি স্বপন মন্ডল, স্ত্রী মৌ কে নিয়ে দিন সাতেক আগে নেপাল বেড়াতে যান। তাঁদের ও কৈলাস, মানস সরোবর যাওয়ার কথা ছিল। তাঁরা গেছিলেন কিনা পরিবার এখন ও জানে না। গতকাল থেকে তাঁদের সঙ্গেও আর যোগাযোগ করা যায় নি।
ভ্রমণ সংস্থার কর্মী জয়ন্ত সান্যালের বাড়ি তারকেশ্বরে, এবার তিনি ও অফিসের হয়ে নেপাল গেছেন। ওখানকার বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্ত ও গেছেন তাঁদের সঙ্গে। তাঁর উদ্বিগ্ন স্ত্রী জানান,গতকাল সকালে অভিবাসন দফতরে গেছিলেন ওঁরা। হড়পা বান আসার সময় ওখানেই ছিলেন। এরপর আর কিছু ভাবতে পারছেন না তাঁরাও।
শিলিগুড়ির সমর মন্ডল সুযোগ পেলেই বেড়াতে যান। তিনিও ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল যান। ইচ্ছা ছিল মানস সরোবর যাওয়ার ও। কিন্তু নেপালে গিয়ে তাঁর শরীর ভাল ছিল না। তাঁর খোঁজে দুশ্চিন্তা গ্রস্ত দাদা কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
এমন ই পরিস্থিতি ওখানে যাওয়া সব পর্যটকের পরিবারেরই।
সকলেই অপেক্ষা করছেন একটি ফোনের জন্য, যেখানে তাঁরা শুনবেন ওঁরা নিরাপদে আছেন।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*