রোজদিন ডেস্ক : কড়া নিরাপত্তায় আজ নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে আচমকাই তরুণ প্রজন্মের প্রবল আন্দোলনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কে পি এস ওলি সরকারের পতন হয়। হিংসাত্মক সেই আন্দোলনে প্রাণহানি, সম্পত্তি ধ্বংস ইত্যাদি কিছুই প্রায় বাদ ছিল না। সেনা, পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকার গঠিত হয়। ধীরে ধীরে শান্ত হয় হিমালয়ের কোলের এই ছবির মত সুন্দর দেশ।
ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি কথা দিয়েছিলেন, ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। দিনও ঘোষণা হয়েছিল। এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে নেপালের এই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যখন নিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুধুই মারণাস্ত্রের ঝনঝনানি!! যুদ্ধের আবহ। ১ কোটি ৯০ লক্ষের কিছু বেশি মানুষ এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর মধ্যে ৮ লক্ষ নতুন ভোটার, যাঁরা এবার প্রথম ভোট দেবেন। ২৭৫টি আসনে ৩৪০০ প্রার্থী আছেন। এর মধ্যে ১০০০ জনেরই বয়েস-৪০ এর নীচে। প্রশাসন নির্বাচন শান্তিপুর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রায় ৭৭ হাজার পুলিশ আধিকারিক ও ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোট পুলিশ আধিকারিক ছাড়া ও নেপাল সামরিক বাহিনী ৮০ হাজার সেনা ও মোতায়েন করেছে।
দীর্ঘদিন রাজতন্ত্রের আওতায় ছিল নেপাল। বহু রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সাক্ষী এই দেশ। চরম বামপন্থী, মধ্য বামপন্থী, বামপন্থীদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্ত আমজনতার প্রত্যাশা পুরণ করতে পারেনি। দারিদ্র্য, বেকারত্ব বেড়েছে।
এবারের নির্বাচন তাই নেপালবাসীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাষ্ট্র পতি রামচন্দ্র পৌড়েল, ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি দেশের জনসাধারণকে শান্তি পুর্ন নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দ মত সরকার গঠনের আহবান জানিয়েছেন।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ তাঁদের নিজেদের এলাকায় ভোট দিতে চলে গেছেন।

Be the first to comment