রোজদিন ডেস্ক : Newspaper office in kolkata partly coloured saffron :
কয়েকদিন আগে হুমকি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি নামী দৈনিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতে হামলা নিয়ে “গেরুয়া গুন্ডামি” শিরোনামে খবর প্রকাশিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। এবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই দৈনিকের দুধ সাদা ভবনের সামনের স্তম্ভ রাঙিয়ে দেওয়া হোল গেরুয়া রঙে। যা নিয়ে সমাজ মাধ্যমে তুফান উঠেছে।
ওই সংস্থার অনেক প্রাক্তন, বর্তমান কর্মী সমাজ মাধ্যমে এর ছবি দিয়ে দুঃখপ্রকাশও করেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন দুধ সাদা বাড়ির সামনের একাধিক স্তম্ভে গেরুয়া রঙ করছেন।
গত মাসে কলকাতার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী একাডেমি অফ ফাইন আর্টস এও একই ছবি দেখা গেছিল। সেখানেও নান্দনিক ওই কেন্দ্রের সামনের অংশে গেরুয়া রঙ করে দেওয়া হয়।
শিল্প, সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট জনদের উপস্থিতিতে তা ফের সাদা রঙ করে দেওয়া হয়। ফের সেখানে বিজেপি বিধায়ক তথা নামী অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের নেতৃত্বে গেরুয়া রঙ করা হয়।
কলকাতার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী এই প্রথম শ্রেণীর দৈনিকটি সাংবাদিক মহলে “সাদা বাড়ি ” হিসাবে পরিচিত। অনেকে একে “হোয়াইট হাউস “-ও বলেন। সেই ভবনে আচমকাই গেরুয়া শিবিরের সমর্থকরা গেরুয়া রঙ করায় বিস্মিত শিল্প, সংস্কৃতি মহলও।

তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি, সৌগত রায় প্রমুখের হয়ে তিনি বলেন, তাঁরা এর তীব্র বিরোধী। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কোন কাজ তাঁরা সমর্থন করেন না। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এই আক্রমণ রাজ্যের মানুষও মানবেন না বলে দৃঢভাবে জানান।
মুখ্যমন্ত্রী ওই দৈনিককে ক্ষমা চাওয়ার যে দাবি করেছেন, সেই বিষয়ে দোলা সেন বলেন, কে কার কাছে ক্ষমা চাইবে তা দেখা যাবে।
এর আগে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, সিপিএম নেতৃত্বও ওই দৈনিককে মুখ্যমন্ত্রীর হুমকি দেওয়ার সমালোচনা করে ধিক্কার জানান।
এর আগেও ওই দৈনিক একাধিকবার রাজ্যের শাসকের সমালোচনা, বিরোধিতার নিশানা হলেও এইভাবে তাদের ভবনে দলীয় রঙ লাগানোর কথা জানা যায়নি।
সংস্থার বর্তমান, প্রাক্তন কর্মীরা ক্ষুব্ধ ভাবে সমাজ মাধ্যমে এই গেরুয়া রঙের পোঁচ দেওয়ার ছবি দিয়ে মন্তব্য করেন, এই ছবির ক্যাপশন পাঠকরাই ঠিক করবেন!
পাঠকদের সিংহ ভাগও এতে ক্ষুব্ধ, ব্যথিত।
সংবাদ মাধ্যমের নিরপেক্ষতা এতে ক্ষুণ্ণ হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিষয়টি নিয়ে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দৈনিকের সংঘাত আরও বাড়লো বলে তাঁরা মনে করেন।

Be the first to comment