প্রাক্তন সেনা প্রধানের বই নিয়ে লোকসভায় রাহুল গান্ধী, নিজের হাতে প্রধানমন্ত্রীকে বই দেওয়ার ঘোষণা

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : প্রাক্তন সেনা প্রধান এম এম নারভানির লেখা পড়তে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। আজ সেই বই নিয়ে লোকসভায় আসেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী। তা সবাইকে দেখিয়ে জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী সভায় এলে তিনি নিজের হাতে তাঁকে এই বইটি দেবেন। তাঁর এই সব বক্তব্য নিয়ে ফের উত্তাল লোকসভা।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের ওপর আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য রাখার কথা আছে। এর আগে দফায় দফায় মুলতবি হয় অধিবেশন। বিকেল ৫ টায় ফের অধিবেশন বসবে।

প্রাক্তন সেনা প্রধানের লেখা এই বই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম সংসদ। সোমবার এর থেকে তিনি পড়তে চাইলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুমুল বাধা দেন। আপত্তি জানান অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও।
আজ রাহুল গান্ধী পুরো বইটি নিয়ে লোকসভায় আসেন। সূত্রের খবর, নারভানির লেখা এই বই দেশে প্রকাশের অনুমতি মেলেনি। বিদেশে তা প্রকাশিত হয়। আজ বিরোধী নেতা
রাহুল গান্ধী বইটি নিয়ে আসেন। তার অংশ বিশেষ জানিয়ে বলেন, ২০২০ সালে চিন ভারতের মধ্যে প্রবেশ করেছিল। প্রাক্তন সেনা প্রধান নারভানি তখন কি করবেন বারবার জানতে চাইলেও উত্তর পাচ্ছিলেন না। শেষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা জানিয়ে দেন৷ তাঁকে বলা হয়, এই পরিস্থিতিতে তিনি (প্রাক্তন সেনা প্রধান) যা উচিত মনে করবেন তাই যেন করেন।
অর্থাৎ এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রমুখ নিজেদের দায় এড়িয়ে নারভানির কাঁধেই বন্দুক রেখেছিলেন, এমনটাই মনে করেন বিরোধী নেতা। তাঁদের দেশ ভক্তি নিয়ে বিজেপির কটাক্ষের উত্তরও তিনি এর মাধ্যমেই দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বলতে দেওয়া হয়নি।

সংসদ ভবনে রাহুল গান্ধী জানান, ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত চিন সীমান্তে যা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন। সরকার এই বই প্রকাশে অনুমতি দেয়নি। বিদেশে এই বই প্রকাশিত হয়েছে, পাওয়াও যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নারভানি কে যা বলেছিলেন, তা হুবহু এই বই-এ লেখা আছে জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, এই বই এর কোন অস্তিত্ব নেই তাঁকে বলা হয়েছিল। আসলে ওঁরা ভয় পেয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী সংসদে এলে তিনি বইটি দেবেন বলে জানান।
সূত্রের খবর, বিধি অনুযায়ী এই ধরনের বই প্রকাশ করতে হলে কেন্দ্রের অনুমতি লাগে। তা মেলেনি। ২০২০-র জুন মাসে গালওয়ান উপত্যকায় চিনের হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ হারান। যা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। ভারত সরকারের দাবি ছিল, গালওয়ানে চিন প্রবেশ করতে পারেনি।
সংসদে এই বই নিয়ে আজ ও তুমুল বাদ বিতন্ডা বাধে। বিজেপির নিশিকান্ত দুবে গান্ধী পরিবারকে নিয়ে কটু মন্তব্য করলে সভা উত্তাল হয়। এর জেরে ফের বিকেল ৫টা অবধি অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*