রোজদিন ডেস্ক : বিজেপিশাসিত তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার মহারাষ্ট্রে এক তরুণী চিকিৎসকের সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। মৃত্যুর আগে নিজের হাতের তালুতে দুই অভিযুক্তর নাম লিখে যান তরুণী। এরই মধ্যে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এক অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গোটা দেশে। ‘ভারত কি বেটি’-র এই পরিণতি মানতে পারছে না কেউই। ঘটনার পরই বিজেপি সরকার ও বঙ্গ বিজেপিকে নিশানা করে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তরফে মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা শনিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে তীব্র আক্রমণ করেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারকে। তিনি বলেন, অত্যন্ত খারাপ, মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় একটা ঘটনা। কিন্তু এরকম কোনও ঘটনা বাংলায় ঘটলে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের মুখে কত কথা শোনা যায়। মহিলা কমিশন চলে আসে। আরও কত কেন্দ্রীয় এজেন্সি চলে আসে। শুরু হয়ে যায় তৎপরতা। কিন্তু এখন আমরা সেরকম কিছু শুনতে পাচ্ছি না। না বিজেপি নেতাদের মুখে, না মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। কেন এই পার্থক্য? প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, ঘটনা কতটা ভয়ঙ্কর ভাবুন। তরুণী চিকিৎসকের অভিযোগ অনুযায়ী এখানে ধর্ষক একজন পুলিশকর্মী। যে চার থেকে পাঁচবার ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয় তাঁকে গত ছয় মাস ধরে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁকে দিয়ে জোর করে ভয় দেখিয়ে মিথ্যে ও ভুয়ো বিভিন্ন মেডিকেল সার্টিফিকেট-সহ অন্যান্য নথি বানিয়ে হয়েছে। তাঁদের নির্দেশ মত নথি বানিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। তিনি এই সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন। চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অভিযোগের কোনও সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তাঁকে চরম পন্থা বেছে নিতে হল। গোটা ঘটনায় নাম জড়িয়েছে এক বিজেপি সাংসদের। তিনিও নাকি ওই চিকিৎসককে ফোন করে ওই সব নথি বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। না করলে খারাপ হবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন ওই সাংসদ। হাতের তালুতে দুই অভিযুক্তের নাম ছাড়াও মৃতা আত্মহননের আগে একটি চিঠিও লিখে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। সেই চিঠিও পুলিশ উদ্ধার করেছে।
শশী পাঁজা প্রশ্ন তোলেন, এখানে ঘটলে এতক্ষণে তোলপাড় হয়ে যেত? কিন্তু এখন বিজেপি চুপ কেন? কেন কিছু শোনা যাচ্ছে না? কোথায় বিজেপির মহিলা মোর্চা? এখানে ঘটনা তো সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অ্যারেস্ট হয়, ওখানে অ্যারেস্ট কোথায়, শুধু সাসপেনশন! আরজি কর আন্দোলন যাঁরা করেছিলেন তাঁরাই বা এখন কোথায়? কেন তাঁরা রাস্তায় নেই?

Be the first to comment