রোজদিন ডেস্ক : রাজ্যে SIR শুরু এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা!! আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বিদ্যালয়গুলিকে তাদের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের তালিকা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর থেকে জারি করা এই নির্দেশনামায় পরিস্কার বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) নির্দেশে বিদ্যালয়গুলিতে সব ধরনের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীদের তালিকা পেশ করতে হবে। বিএলও-দের সহযোগিতা করার জন্য তা প্রয়োজন।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী প্রশ্ন তুলেছেন, এসআইআরে এইভাবে বিদ্যালয়গুলি থেকে শিক্ষক, কর্মী নেওয়া হলে পঠন পাঠন হবে কিভাবে? এমনিতেই রাজ্যের ৯৪ হাজার বুথের ৯০% বুথে শিক্ষকরাই বিএলও। তাঁদের সহযোগিতা করার জন্যও কর্মী নেওয়া হবে বিদ্যালয় থেকেই!! ফলত, পুজোর ছুটির পর বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকের অভাব হতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের তীব্র বিরোধিতা সত্বেও নির্বাচন কমিশন এসআইআরের কাজ যত শীঘ্র শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিষয়ে তারা কোন ওজর আপত্তি শুনতে রাজি নয়।
বিরোধী কংগ্রেস, সিপিএম প্রমুখ দলের বক্তব্য, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষভাবে এই কাজ হোক। বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মতে, ভোটার তালিকা নির্ভুল, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ হোক তাঁরা চান। প্রকৃত ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান, ভূয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাক।
একই দাবি বামফ্রন্টেরও। ইতিমধ্যেই সিপিএমের অভিযোগ, যাদবপুরে অনেক ভোটারের বাড়ির ঠিকানায় স্থানীয় ল্যাম্প পোস্টের নম্বর দেওয়া আছে। শুধু যাদবপুরেই ২০ হাজার ভুয়ো ভোটার আছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যের সব কেন্দ্রেই এই ধরনের বহু ভুয়ো ভোটার আছে বলে তাঁরা মনে করেন।
আগে এসআইআর নিয়ে সুর চড়ালেও এখন কংগ্রেস, বামফ্রন্ট প্রমুখ ভূয়ো ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভোটার তালিকার দাবি তোলায় কিছুটা হলেও শাসক শিবির অস্বস্তিতে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করেন।
অন্যদিকে এসআইআর-এর প্রতিবাদে আজ এপিডিআর সহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন আজ পথে নামছে। তাঁদের অভিযোগ, এসআই আরের মাধ্যমে এনপিআর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। এর বিরুদ্ধে তাঁরা জোরদার আন্দোলন করার হুশিয়ারিও দেন।

Be the first to comment