সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর:
কৃষ্ণনগর পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শক্তিনগর অঞ্জনাপাড়ার রজনীকান্ত রায় রোডের ঠিক মাঝখানে রয়েছে পল্লীমঙ্গল সমিতি শিশু উদ্যান—একসময় যা ছিল স্থানীয়দের কাছে নিঃশ্বাস নেবার একমাত্র নির্ভরস্থল। দু’দশকেরও বেশি আগে পুরসভার উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ছোট্ট পার্কটি শিশুরা যেমন খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করত, তেমনই বয়স্কদের জন্যও ছিল হাঁটাহাঁটি, শরীরচর্চা আর গল্পগুজবের জায়গা।
আট-নয় বছর আগে বাসিন্দাদের অনুরোধে পার্কটির এক দফা সংস্কারও করা হয়েছিল। সেই সময় উদ্যানটি নতুন প্রাণ পায়। সন্ধে নামলেই বাড়ি থেকে বেরোতেন প্রবীণরা, আর বাচ্চাদের হাসি-কোলাহলে মুখর হয়ে উঠত চত্বর।
কিন্তু করোনা পর্বে লকডাউন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রবেশ পথ প্রায় অচল হয়ে পড়ে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বন্ধ হয়। এরপর থেকেই শিশু উদ্যানটি আর আগের চেহারায় ফেরেনি। এখনকার ছবি অনেকটাই হতাশাজনক—
পার্কের ঘাস মাথা উঁচু করে ঝোপঝাড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, স্লাইড আর দোলনা ঢেকে গেছে আগাছায়। ভাঙা দেওয়ালে শুকোতে দেওয়া হচ্ছে জামাকাপড়। গোরু-ছাগল ঢুকে খেয়ালখুশিমতো ঘুরে বেড়ায়। নিচ্ছিদ্র অব্যবস্থায় পুরো পার্কটাই যেন পরিত্যক্ত বনে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আক্ষেপ বেশ তীক্ষ্ণ।
“শহরে পার্ক তো এমনিতেই কম,” বলছেন রুনু হালদার।
“যেটুকু আছে তা-ও পড়ে আছে ধ্বংসের মুখে। এখানকার বাচ্চারা আর প্রবীণরা কোথায় যাবে?”
বাড়ির পাশেই পার্ক দেখে বড় হওয়া নির্মল পাল মনে করিয়ে দিলেন পুরনো দিনের কথা—
“এই উদ্যান একসময় জমজমাট ছিল। বিকেল মানেই সবাই এখানে জড়ো হত। অতিমারীর পর পুরো জিনিসটাই নষ্ট হয়ে গেল। এরপর আর কেউ দেখেনি।”
বাসিন্দাদের দাবি পরিষ্কার—দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হোক, আগাছা কাটুক, ভাঙা দোলনা-স্লাইড সারানো হোক, লাইট বসুক, আর রোজকার রক্ষণাবেক্ষণ আবার চালু করা হোক। তাদের কথায়, “পার্ক ফিরে এলে এলাকাটা ফের বেঁচে উঠবে।”
প্রশাসনের তরফে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক ও পুরসভার প্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী জানালেন,
“বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রাক্তন কাউন্সিলার বর্ণালী গুইন দত্তের দাবি,
“উদ্যান সংস্কারের বিষয়ে আমি বহুবার পুরসভায় জানিয়েছি। তবু কাজ এগোয়নি।”
শিশুদের হাসি আর প্রবীণদের হাঁটা-গল্পে একসময় মুখর থাকা পল্লীমঙ্গল শিশু উদ্যান এখন যেন সময়ের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।
এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—এই পার্ক যেন আরেকবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।

Be the first to comment