নিজস্ব প্রতিবেদক, নদীয়া :
কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজোয় দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। পুজোর তালিকা, মণ্ডপের অবস্থান থেকে শুরু করে পুজোর ইতিহাস—সমস্ত তথ্য এবার মিলবে একটি মোবাইল অ্যাপেই। প্রশাসনের উদ্যোগে চালু করা হল ‘স্মার্ট পুজো গাইড’ অ্যাপ। এর মাধ্যমে সহজেই নিজেদের পছন্দমতো পুজো পরিক্রমার পরিকল্পনা করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
আসন্ন কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার বিকেলে কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে প্রশাসন এবং বিভিন্ন ক্লাব ও বারোয়ারির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপের উদ্বোধন করা হয়। প্রশাসনের আশা, নতুন এই উদ্যোগ দর্শনার্থীদের পুজো পরিক্রমাকে আরও সহজ ও সুপরিকল্পিত করে তুলবে।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার অতুল ভি, কৃষ্ণনগরের দুই বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় ও সাধন ঘোষ-সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। সভায় মূলত ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিসর্জনের সময়সূচি এবং পুজো চলাকালীন সামগ্রিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর কালীপুজোর বিসর্জনে মোট ৪৬টি সাং অংশগ্রহণ করবে। লরির মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হবে বিকেল ৫টা থেকে। অন্যদিকে, কাঁধে করে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হবে রাত ৮টা থেকে। পাশাপাশি জগদ্ধাত্রী পুজোর ঘট বিসর্জন সকাল ১০টা থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় মেনে বিসর্জন পর্ব সম্পন্ন করার জন্য ক্লাব ও বারোয়ারিগুলিকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লি বলেন, হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ সময় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপ পরিদর্শন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে বড় বারোয়ারিগুলির প্রবেশ ও বেরোনোর পথ ভালোভাবে পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন তিনি। বড় মণ্ডপগুলিতে অন্তত দুটি বেরোনোর পথ রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেন জেলাশাসক। একইসঙ্গে প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি।
কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিসর্জনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। পুজোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরই এ বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। কয়েকজনের ব্যক্তিগত রাগ বা বিবাদের কারণে যাতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রাখার আবেদন জানান তিনি। পাশাপাশি কোনও বারোয়ারি অশান্তি সৃষ্টি করলে প্রশাসন এবার কঠোর পদক্ষেপ করবে বলেও সতর্ক করেন। এমনকী ভবিষ্যতে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও সংশ্লিষ্ট বারোয়ারিকে বঞ্চিত হতে হতে পারে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা পুজোর আয়োজন করছেন, তাঁরা ভালো-মন্দের বিষয়গুলি যথেষ্ট জানেন। তাই পুরনো ভুলত্রুটি সংশোধন করে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এবছর পুজোয় দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আগাম সতর্কতা ও প্রস্তুতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিধায়ক।
সব মিলিয়ে, একদিকে প্রযুক্তির সাহায্যে দর্শনার্থীদের পুজো পরিক্রমা সহজ করা, অন্যদিকে প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা—এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কৃষ্ণনগরের কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি শুরু করল জেলা প্রশাসন।

Be the first to comment