সোনার বাংলা নিষিদ্ধ অসমে, নিন্দার ঝড় রাজ্যে

Spread the love

রোজদিন ডেস্ক : বিশ্বকবির সোনার বাংলা অসমে নিষিদ্ধ হওয়ার তীব্র নিন্দা করলেন রাজ্যের কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পর কবি যে গান লিখেছিলেন, অসমে সেই গান নিষিদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন অসমের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজ্যে। কংগ্রেসের দুই নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ও শুভংকর সরকার এর তীব্র নিন্দা করেছেন। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী দোলা সেন এই ঘটনায় স্তম্ভিত। বিজেপির আসল রূপ এতে প্রকাশ পেয়েছে বলে জানান তাঁরা। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতা পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি কি সরকারি ভাবে ঘোষণা করবে যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ” আমার সোনার বাংলা ” গান ভারত বিরোধী ??
বিজেপির নেতা প্রদীপ ভান্ডারি পালটা জবাবে বলেছেন, কংগ্রেস যে ভারত বিরোধী এটি তারই নিদর্শন। কেন রাহুল গান্ধী এই নিয়ে নীরব তিনি জানতে চান।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার করিমগঞ্জে কংগ্রেস-এর এক সভায় বর্ষীয়ান বিধু ভূষণ দাস এই গান করায় তাঁর ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়ে ওঁরা দেশদ্রোহিতা করেছেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভংকর সরকার অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই ফতোয়ার তীব্র নিন্দা করে বলেন, গানের কোন সীমানা হয় না৷ দৃষ্টিহীনরাও গানের মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করেন। আর রবীন্দ্রনাথ! তিনি তো বিশ্বজনীন!! যাঁরা রবীন্দ্রনাথ কে মানেন না, তাঁরাই দেশদ্রোহী, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য কে তিনি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা বলে মন্তব্য করেন। অপারেশন সিঁদুর এর পর লন্ডনে গেছিলেন তিনি। দেখেছেন, কিভাবে ব্রিটিশরা একটি উদ্যানে কবিগুরুর মুর্তিতে প্রতিদিন গোলাপ দেন। দেখে মন ভরে গেছে তাঁর।
বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অসমের ইতিহাস জানেন না। সোনার বাংলা গান কে তিনি অর্বাচীনের মত মন্তব্য করে যে পাপ করেছেন, তার প্রায়শ্চিত্ত করবেন কি ভাবে?
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপির মনোভাব এতে প্রকাশ পেয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ কে তীব্র কটাক্ষে বিঁধে তিনি বলেন, উনি তো এখানে এসে সোনার বাংলা করে দেওয়ার কথা বলেন। তবে আগে ওঁকেই অভিযুক্ত করা হোক।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী দোলা সেন অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, এটা হোল তুঘলকশাহি, হিটলারশাহি, তানাশাহি আর মোদিশাহি! ইডি সিবিআই থেকে বাঁচতে উনি এই সব বলেছেন। এই সব করেই বিজেপি এবার লোকসভা ভোটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি পরের বার ওদের সংখ্যা আরও নেমে যাবে বলে দোলা সেন তোপ দাগেন।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না, তাই কোন মন্তব্য করবেন না।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই ফতোয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন মহল হতবাক।
যে বিজেপি আগামী বছর বাংলা জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তারা রবীন্দ্রনাথের বিশ্বজনীন তা জানে না, এমনই ভাবছেন তাঁরা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*