রোজদিন ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর সাবেক তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব রেখেছিলেন তাঁরা দুজনে। আচমকাই নেত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে বিপাকে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান।
অন্যদিকে গতকাল বিধানসভা ভবনে গিয়ে মমতাপন্থী নেতা শোভনদেবের কাছে মিষ্টি খেতেই ( প্রশাসনের?) কোপে আরেক বিধায়ক কাজল শেখ। এই ছবি সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার দেহরক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে তাঁর। ভাইপোদের বাড়ি পুলিশি তল্লাশি করে উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ ও। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ দুই বিধায়ক ই।
বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের সভা থেকেই প্রকাশ্যেই বিধায়ক হামিদুল রহমান কে নিশানা করে একের পর এক তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তীব্র কন্ঠে বলেন, ওঁর বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, সব খোলা হবে, ২০২১ সালের বিধান সভা নির্বাচন, এরপর পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় চোপড়ার অত্যাচারিত বাসিন্দাদের নতুন করে অভিযোগ নেবে পুলিশ। এরপর তিনি ইসলামপুর, চোপড়ায় জনসভা করবেন।এই জেলায় কত বড় মস্তান,বালি চোর, ভূয়ো মাফিয়া আছে! জেলার এস পি সহ পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে তা খোলার নির্দেশ দেন।
হামিদুল রহমান অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ ই অস্বীকার করেন।
বীরভূমের বিধায়ক কাজল শেখের দুই নিরাপত্তা রক্ষী ও আচমকা তুলে নেওয়ায় বিস্মিত তিনি।আইনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন বলে ইঙ্গিত দেন।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি এই সব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কে পালটা তোপ দেগে বলেন, আগে উনি নিজের ভাইপো, নিজের ফাইল খুলুন! চোরবাগান কান্ডে সিট কেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না, প্রশ্ন তোলেন।
মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ ঋতব্রত শিবিরে আগে যোগ দেওয়া এই দুই বিধায়ক বেসুরো হতেই তাঁদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। মমতাপন্থী তৃণমূল কে ভয় পেয়ে, তাঁর দল ভাঙার জন্য ই বিজেপি ঋতব্রত শিবির কে ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে ওই শিবিরের নেতা আখরুজ্জামান পালটা দাবি করেন, হামিদুল রহমান তাঁদের সঙ্গেই আছেন। রায়গঞ্জের সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, তৃণমূল এখন নির্মুল। মানুষ আর ওই কালো দিনগুলির কথা মনে রাখতে চান না। অন্যায় করলে ব্যবস্থা হবেই।

Be the first to comment